হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন ছিল একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। প্রকল্পটি বাধাগ্রস্ত করতে জনতার মঞ্চসহ ৭৮টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০টি কোর্ট অবমাননা মাথায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত রাজউক এই চ্যালেঞ্জে জয়লাভ করেছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিল প্রকল্প উদ্বোধন করবেন আগামীকাল ২ জানুয়ারি বুধবার। গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো.নূরুল হুদা এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাতিরঝিলের উভয় পাশে যেসব ভবন নির্মিত হবে তা অবশ্যই হতে হবে নান্দনিক ও শৈল্পিক। এই শর্তে রাজউক হাতিরঝিল এলাকায় নতুন ভবনের প্লান পাস করবে। এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃষ্টি ও বন্যাজনিত পানি ধারণ, বৃষ্টির পানি ও পয়ঃনিস্কাশন, নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি, রাজধানীর সাথে পূর্ব-পশ্চিম অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক পরিবেশের উন্নয়ন করা। প্রকল্পের আওতায় শহরের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী সড়ক, ব্রীজ ও লেক সাইড ওয়াকওয়ে নির্মাণের ফলে যানজট বহুলাংশে কমবে। এছাড়া হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি খালের সাথে বনানী এবং গুলশান লেকের সংযোগ দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ মিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই লেকের জলরাশি রাজধানীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সর্বোপরি একটি আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে হাতিরঝিল প্রকল্পকে ঘিরে।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্পে যারা সত্যিকার অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের মাথায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর ১৫ তলা বিশিষ্ট দুইটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বরাদ্দ করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের সার্ভিস সড়কের মাধ্যমে প্রকল্প সংলগ্ন বাড্ডা, রামপুরা, উলন, মধুবাগ, মগবাজার, গুলশান ও তেজগাঁও এলাকার জনসাধারণ খুব অল্প সময়ে ঢাকা শহরের সর্বত্র যাতায়াত করতে পারবে।
