প্রতিবছর খ্রিস্টীয় পুরান বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আনন্দ-উত্সবের জোয়ারে ভাসে ভারতের তরুণ-তরুণীরা। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। কিছু নরপশুর নির্যাতনে বছর শুরুর দুই দিন আগে এক ছাত্রীর মৃত্যু সকলকে শোকের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ তরুণীরা বলছেন, ওই মেয়েটির ভাগ্য হয়তো আমাদের কাউকে বরণ করতে হতো। এমনকি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীও নতুন বছরের অনন্দ উদযাপন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকালও নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ জনগণ। তরুণীর পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। এদিকে এ সংক্রান্ত মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশ। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও পিটিআই’র।
কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ধর্ষিত তরুণীর মৃত্যুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কোনো অনুষ্ঠান না পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি গতকাল নয়াদিল্লিতে পার্টির সমর্থকদেরও এ আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বছর উপলক্ষে সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী তাদের সকল অনুষ্ঠান বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শোকাহত অভিজাত হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার আনন্দ করতে পারছেন না তারা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ওই মেডিকেলের ফিজিওথেরাপির ছাত্রীর (২৩) প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবার আনন্দ করা থেকে বিরত থাকবেন তারা। সোমবার দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ হোটেল, ক্লাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি বিভিন্ন সামাজিক-পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানও ওই তরুণীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বছর শুরুর উত্সব থেকে বিরত থাকবে। কংগ্রেস নেতা চরণ সিং সাপরা এবারের ‘থার্টিফার্স্ট নাইটে’ আনন্দ-উল্লাস থেকে বিরত থাকতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। উত্সব থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)। পাঞ্জাব ও হারিয়ানা রাজ্য সরকারও একই ঘোষণা দিয়েছে। চন্ডিগর প্রেসক্লাবসহ ওই অঞ্চলের হোটেল, ক্লাবগুলো আনন্দ-উল্লাস থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার মহাসচিব অনিল আনন্দ বলেন, বাঁচার জন্য ১৩ দিন লড়াই করার পর মারা যাওয়া ওই সাহসী মেয়েটির স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে এবার আমরা থার্টিফার্স্ট উদযাপন করছি না। ক্লাব খোলাই থাকবে; তবে কোনো আনন্দ হবে না এবার। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের কথা ছিল মেয়েটির। তার মৃত্যুর পর দিল্লি এবং বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ের পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে বুকিংয়ের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে তরুণী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশ। আগামী বৃহস্পতিবার ১ হাজার পৃষ্ঠার এ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। মামলায় ৩০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ১৭ বছরের এক কিশোরসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছাত্রীর পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লির রাজ্য সরকার। গতকাল রাজ্যের মন্ত্রিপরিষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে ধর্ষণের বিষয়টিতে আরো কঠোর আইন করতে পরামর্শ দেয়ার জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে বিরোধী দল বিজেপিসহ কয়েকটি দলের কাছে চিঠি দিয়েছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর সড়কে চলন্ত বাসে ধর্ষণ এবং ব্যাপক মারধরের পর ২৩ বছরের ওই তরুণীকে বাস থেকে ফেলে দেয় ওই বাসেরই কয়েক যাত্রী। ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২৯ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।
