বছর জুড়ে আলোচনায় নারী নির্যাতন

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৩
গত বছর নারী নির্যাতনের বিষয়টি ছিল বেশ আলোচিত। আদালতপাড়ায় কিশোরীর শ্লীলতাহানি, পার্বত্য এলাকায় নারী ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণ, উত্ত্যক্তকরণের কারণে আত্মহত্যা, এসিড সন্ত্রাস, যৌতুকের কারণে হত্যার মতো অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর ৫৬১৬ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই বিপুলসংখ্যক নারী নির্যাতনের মধ্যে উত্ত্যক্তকারীর কবলে পড়েছেন ৬৬২ জন নারী আর উত্ত্যক্তকরণের কারণে আত্মহত্যা করেন ১৭ জন। পুরুষের বর্বরতা ও ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ৭৭১ জন এবং গণধর্ষণের শিকার নারী ১৫৭ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০৬ নারীকে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ১৩৩ জন নারীকে। গত বছর ২০৫ জন নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এসিড সন্ত্রাসে একজন নারীর মৃত্যুসহ ৬৭ জন দগ্ধ হন। অগ্নিদগ্ধের শিকার নারী ৫৭ জন যার মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে ৩০ জনের। গত বছর আর একটি আলোচিত ইস্যু ছিল অপহরণ, গত বছরে মোট ১২৯ নারী অপহরণ এবং ৩৩ জন নারী ও শিশু পাচার করা হয়েছে যার মধ্যে ১৪ জনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। শিক্ষাদিক্ষায় নারী এগিয়ে গেলেও বের হতে পারেনি যৌতুকের কবল থেকে। গত বছর ফারজানা বিয়ের আসরে যৌতুকের জন্য স্বামীকে তালাক দিয়ে আলোচনায় আসে। তারপরও যৌতুকের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৫৮ জন নারী আর এই একই কারণে হত্যা করা হয় ২৯৫ জন নারীকে। গত বছর ফতোয়া খুব আলোচিত না হলেও ৪৪ জন নারীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়া হয়। গৃহপরিচারিকার কাজ নিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী ও শিশুর সংখ্যা ছিল ৯৭ জন, যার মধ্যে হত্যা করা হয় ৪১ জনকে। গৃহকর্ত্রী ও কর্তার নির্যাতনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে ১৮ জন। গত বছর ৯০০ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয় এবং বিভিন্ন কারণে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় ৮০৪ জনকে। নানা করাণে ৪৩৫ জন নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এছাড়া প্রেমে প্রত্যাখ্যান হয়েছেন ৩৭ জন, বাল্য বিবাহ ৮৮ জন, পুলিশি নির্যাতন ৫৯ জন এবং অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হন ৫৮৭ জন নারী।