রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় একটি জঙ্গি আস্তানায় র্যাব শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়েছে। বছিলা আবাসিক এলাকার মেট্রো হাউজিংয়ের আট নম্বর রোডের আধাপাকা একটি টিনশেড বাড়ি ঘিরে এই অভিযান চলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে র্যাব বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর গতকাল সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা ধরে চলে অভিযান। এরইমধ্যে রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি ও ভোর পাঁচটার দিকে আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই বাড়ির টিনের চাল উড়ে যায় ও বাড়িতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল বিকালে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তবে বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারের তথ্যমতে, ওই দুইজনের নাম সুমন ও সুজন। তারা দুইজনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’তুল মুজোহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। ভ্যানচালক ও বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল তারা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক আব্দুল ওহাব, বাড়ির কেয়ারটেকার সোহাগ ও তার স্ত্রী মৌসুমি এবং মসজিদের ইমাম ইউসুফকে আটক করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশাপাশি চারটি কক্ষের একটি কক্ষ মসজিদ হিসাবে ব্যবহার হতো। রবিবার রাত তিনটার দিকে অভিযান যখন শুরু হয় তখন মসজিদের মেঝেতে মশারি টানিয়ে শুয়ে ছিলেন ওই মসজিদের ইমাম ইউসুফ। পাশের তিনটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। একটি কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিতেই ভেতর থেকে এক নারী দরজা খোলেন। তখন পাশের আরেকটি কক্ষ থেকে জিকির শোনা যাচ্ছিল। র্যাব সদস্যরা ওই নারীর কাছে জানতে চায়- কে জিকির করছে? ওই কক্ষের ভেতর থেকে র্যাবকে উদ্দেশ করে গুলি ছোড়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে র্যাব সদস্যরা ওই নারী ও তার স্বামী ইমাম ইউসুফ এবং তাদের দুই শিশুকে নিরাপদে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে।
র্যাব জানায়, রাত সাড়ে তিনটা ও ভোর পাঁচটার দিকে বাড়ির ভিতর থেকে প্রচণ্ড শব্দে দুইটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে টিনের চাল উড়ে যায়। এসময় ওই বাড়িতে আগুন ধরে যায়। র্যাব টিনশেড বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড়শ রাউন্ড গুলি ছোড়ে র্যাব। পরে ঘটনাস্থল থেকে র্যাব দুইটি ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল। চারটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ (আইইডি) ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করে র্যাবের বোম্ব ডিসপজাল টিম। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। র্যাব এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন বছিলা’।
গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
