নববর্ষের উপহার হিসেবে কার্ড, ক্যালেন্ডার বা অন্যান্য উপহার পাঠানোর চল বিশ্বের কমবেশি প্রায় সবদেশেই রয়েছে। তবে এ ধরনেরই একটি উপহার পেয়ে সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের স্ক্র্যানটন শহরের দ্য টাইমস-ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ যতোটা না খুশি হয়েছেন তার চেয়েও বেশি চমকে উঠেছেন। কারণ পত্রিকা অফিসের ঠিকানায় নববর্ষের শুভেচ্ছা হিসেবে পাঠানো ক্যালেন্ডার আর শুভেচ্ছা বার্তাটি যে পাক্কা ৬৩ বছর পর এসে পৌঁছেছে প্রাপকের ঠিকানায়। বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগের ভুলের কারণে প্রাপকের কাছে জিনিস পৌঁছাতে দেরী হওয়ার ঘটনা হয়তো বিশ্বে আরও অনেকই আছে। কিন্তু ৬৩ বছর পর হলেও ঠিক নববর্ষের সময়ই নববর্ষের উপহার পৌঁছানোর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পেনসিলভানিয়ার স্ক্র্যানটনে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এ বছর নববর্ষের ঠিক আগে আগেই স্ক্র্যানটন টাইমস্ এর জেনারেল ম্যানেজার জেমস ফ্লানাগানের নামে একটি টিউব আকৃতির পার্শেল আসে। কিন্তু ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে যেখানে জেমস ফ্লানাগানের মৃত্যু হয় সেখানে এতো বছর পর তার নামে পার্শেল আসতে দেখেই প্রথম সন্দেহ হয়েছিল দ্যা টাইমস-ট্রিবিউনের কর্মীদের। আর তাদের এই সন্দেহকে অমূলক প্রমাণ করেই টিউবের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে ১৯৫০ সালের ক্যালেন্ডারসহ একটি শুভেচ্ছা বার্তা। এটি ছিল পেনসিলভানিয়া রেইলরোড কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পাঠানো ১৯৫০ সালেরই একটি ক্যালেন্ডার। এছাড়া ক্যালেন্ডারের সাথে থাকা শুভেচ্ছা বার্তাটিতে তারিখের জায়গায় লেখা ছিল ডিসেম্বর ১৯৪৯। সম্ভবত সে মাসেই পত্রিকাটির জেনারেল ম্যানেজার জেমস ফ্লানাগানের মৃত্যুর খবরটি জানা ছিল না তাদের। পার্শেল পাঠানোর প্রায় ৬৩ বছর পর তা প্রাপকের কাছে পৌঁছানো সম্পর্কে ইউ.এস. পোস্টাল সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানান যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অফিস স্থানান্তরের মতো কারণে এই পার্শেলটি হারিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। এদিকে নববর্ষে অভাবিত এই উপহার পেয়ে টাইমস-ট্রিবিউনের বর্তমান প্রকাশক ববি লিনেট জানান, তারা স্থানীয় রেলওয়ে জাদুঘরের সাথে যোগাযোগ করে দেখবেন যে এই ক্যালেন্ডারটি তারা নিদর্শন হিসেবে রাখতে চায় কি না। আর তারা যদি এটি সম্পর্কে আগ্রহ না দেখায় তাহলে পত্রিকার অফিসেই এটি বাঁধাই করে রাখা হবে।
