সিরিয়ার সহিংসতা ও রক্তপাত বন্ধে যেকোন উদ্যোগে সাড়া দেবে আসাদ সরকার। বিশ্ব ক্ষমতাধরদের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি শান্তি পরিকল্পনা তার কাছে আছে—আরব লীগের শান্তি দূত লাখদার ব্রাহিমির এমন বক্তব্যের পর সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ওয়ায়েল আল হালাকি পার্লামেন্টে এক ভাষণে একথা বলেন। এদিকে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে দামেস্কর নিকটবর্তী এলাকাগুলো পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিতে সোমবার সরকারি বাহিনী ট্যাংক মোতায়েন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হালাকি বলেন, বাইরের কোন চাপ না আসলে সিরিয়ার মানুষই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে পারবে। সরকার জাতীয় সমন্বয়করণ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে এবং বর্তমান সংকট নিরসনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যেকোন উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। তবে তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পশ্চিমাদের কোন হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, যখন সিরিয়ার জয় নিশ্চিত হবে তখন দেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাবে। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, একটি ‘সন্ত্রাসী দল’ ডেইর এজোর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে তেল সমৃদ্ধ পূবালের একটি গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওদিকে দেশটিতে সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। রাজধানী দামেস্ক, আলেপ্পো, বারজেহ ও জোবার জেলায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সোমবার দামেস্কে ক্ষত-বিক্ষত অনেক লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এটি গত একুশ মাসের যুদ্ধের মধ্যে অন্যতম একটি নৃশংসতার ঘটনা। এছাড়া বারজেহ জেলায় ৩০টি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। ওদিকে সেনাবাহিনী আলেপ্পোকে পুরোপুরি সন্ত্রাসীমুক্ত করেছে বলে সিরিয়ার টেলিভিশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪৫,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
