দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদে বিএনপি

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪০

সকল জল্পনা-কল্পনা আর নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই সংসদে গেল বিএনপি। ‘আমরা শপথ নেব না, এই সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’- ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে গত চার মাস ধরে এই কথা বলে আসার পর সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বললেন, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের কথা বলতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির নির্বাচিত আরও চারজন সংসদ সদস্য হিসেবে গতকাল সোমবার শপথ নিয়েছেন।

সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমা ৯০দিনের শেষদিনে গতকাল শপথ নেন বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুন অর রশীদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে তার কক্ষে বিকাল পৌণে ছয়টার দিকে তারা শপথ নেন। শপথের পর এই চারজন বলেছেন, দলের বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই তারা শপথ নিয়েছেন। পরে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর শপথ নেওয়া বিএনপির ৫ এমপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই চারজনের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকালে চারজনের শপথের পর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন- বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনিও সংসদ সদস্য (বগুড়া-৬) হিসেবে শপথ নেবেন বলেও ঘোষণা দেন। জানা গেছে, মির্জা ফখরুল শপথের জন্য স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছেন। ফলে যে কোনোদিন শপথ নেবেন ফখরুলও।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের কথা বলতেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত: ফখরুল

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে সীমিত পরিসরে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার জন্য শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে তারেক রহমানের কথা হয়েছে। কথা বলার পর তাকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপর তিনি তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। গণতান্ত্রিক ধারার অংশ হিসেবে সীমিত সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের অংশ হিসেবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তারেক রহমান।

কেন বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা শেষ পর্যন্ত শপথ গ্রহণ করলেন, সেটির ব্যাখ্যায় ফখরুল বলেন, যুগপত্ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপত্ভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সঙ্কটময় জটিল প্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিত্সা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমাদের দল সংসদে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তারেকের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাহিদ, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে

একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মোট ছয়জনের মধ্যে মির্জা ফখরুল ছাড়া বাকি পাঁচজনই শপথ নিয়ে এখন সংসদে। এর আগে বিএনপির জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩) বৃহস্পতিবার এমপি হিসেবে শপথ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নেওয়ায় শনিবার দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। শপথ গ্রহণের পর বিএনপির হারুন অর রশীদ সংসদ ভবনেই উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, গতকালই তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে জাহিদুর রহমানের কথা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জাহিদ বলেছেন, ‘আমার ভুল হয়েছে, দলের সিদ্ধান্তের জন্য আমার অপেক্ষা করা উচিত ছিল, সবার সাথে একত্রে শপথ নেওয়া উচিত ছিল’। হারুন জানান, আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই জাহিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে।