শীতার্ত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৪
হেমন্ত শেষে ষড়ঋতুর দেশে ফিরে এসেছে শীত। দিন যত যাচ্ছে শীতের প্রকোপ তত বাড়ছে। শীতে কর্মজীবী দরিদ্র মানুষেরা খুব কষ্ট পায়। কুয়াশা আর ঠাণ্ডার মধ্যেও জীবিকার সন্ধানে সবকিছু অতিক্রম করে তাদেরকে কাজে নামতে হয়। কুয়াশার চাদরে যখন প্রকৃতি ঢেকে থাকে তখন অন্যদের মতো তাদেরও ইচ্ছে করে লেপের নিচে শুয়ে থাকতে। কিন্তু পেটে দুমুঠো ভাত দেয়ার জন্য তারা এটা পারে না। একদিন কাজে না গেলে বা কাজ না পেলে তাদের পরিবারে খাবার জোটে না। শীতকালীন রোগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে গেলে এখন বৃদ্ধ আর শিশুদেরকে পাওয়া যায়। শিশু ও বৃদ্ধের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা কম। শিশুরা ঠাণ্ডায় খুব কষ্ট পায়। বস্তির শিশুদের নাই গরম কাপড়। আবার কারো একটা জামাও জোটে না। এই শিশুদের নিয়ে কেউ তেমন চিন্তা করে না। যদিও কোনো কোনো সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। তবে খুব অল্প সংখ্যক শীতার্তকে বস্ত্র সরবরাহ করা হয়। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা বছর বছর নতুন করে শীতের কাপড় কেনে। কিন্তু পাশের বাড়ির কোনো বৃদ্ধ বা শিশু শীতে থর থর করে কাঁপছে এটা তাদের বোধবুদ্ধিকে আলোড়িত করে না। তাদের বাড়ির পোষা কুকুরটা যখন কম্বল, সোয়েটার পরে থাকে তখন গরিব প্রতিবেশীর ভাগ্যে একটা ছেঁড়া চাদরও জোটে না। তীব্র শীতে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয় শীতের ছুটি তখন কর্মজীবী দরিদ্র মানুষের কোনো ছুটি নাই। শিশুশ্রমিকরাও কাটাতে পারে না কোনো ছুটি। অন্যান্য শিশুর মতো শীতে পায় না মায়ের আদর বা বাবার স্নেহ-ভালোবাসা। ঋতুর সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রুটিন পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু প্রতিদিন যাদের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয় তাদের অপরিবর্তিত রুটিনমাফিক চলতে হয়। নিজস্ব উদ্যোগ ছাড়াও পত্র-পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করছে। সরকারিভাবে অনেক সময় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে এগুলো এসে থাকে। আবার কখনো সরকারদলীয় নেতাদের মাধ্যমে আসে। শীতে যে কাপড়গুলো শীতার্ত গরিব মানুষ পাবে বলে ধারণা করা হয় বাস্তবে ঘটে তার উলটো। যাদেরকে কম্বল বিতরণ করতে দেয়া হয় তাদের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় শীতবস্ত্র হাতিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা। বাকি যা থাকে তাও আবার চলে যায় প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়স্বজনদের কাছে। আবার শীতবস্ত্র বিতরণে দলীয়করণও লক্ষ করা যায়। শীতবস্ত্র পাবে এমন যোগ্য ব্যক্তিকে রেখে দলীয় মানুষকে একটার পরিবর্তে তিনটা পর্যন্ত কম্বল দেয়া হয়। যে কোনো বিপদ বা দুর্যোগ এলে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। এ সময় শীতার্তরা শুধু আমাদের দিকে চেয়ে থাকে। তাদের চেয়ে থাকা মুখে আমরা হাসি ফুটাতে পারি কেবলমাত্র দুমুঠো খাবার ও শীতবস্ত্র সরবরাহের মধ্য দিয়ে। তাদের সান্ত্বনা দিতে পারি একটু সুন্দর ব্যবহার করে। পৃথিবীতে মানুষ কেবল মানুষের জন্য। একজনের দুর্যোগ-দুর্ভোগে অন্যজন এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আমাদেরকেও শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কম্বল কিনে অথবা কেউ নিজের বাসার ব্যবহূত গরম কাপড় দিয়েও শীতার্ত দরিদ্র মানুষকে শীত মোকাবেলায় সাহস যোগাতে পারি। ঢাকা