কারাগারে জ্যামার থাকতেও ফোনালাপ নিয়ে বিস্ময়

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়কে সামনে রেখে দেশের ১১ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ৬৮টি কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বিগুণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ হয়। বৈঠকে কারাগারের ভিতরে মোবাইল জ্যামার থাকা সত্ত্বেও কি করে বন্দিরা মোবাইল ফোনে কথা বলেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। কারাগারে বন্দি জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা যে কোন সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে এমন আশংকা নিয়ে বৈঠকে কারা নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে কারা অধিদফতরের কর্নেল পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, কোন উদ্দেশ্য থেকে নয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অধিকাংশ কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্য বিষয়গুলো আপডেট হচ্ছিল না। এখন যেহেতু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে এবং এ নিয়ে একটি চক্র মাঠ পর্যায়ে ধংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করেছে, সেহেতু কারাবন্দি এবং দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। এজন্যই কারাগারের ভিতরে এবং বাইরে নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়ে। নতুন কিছু ব্যবস্থা কার্যকর হলে বন্দিদের নিরাপত্তার আরো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বৈঠকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগার-২ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এই দুইটি কারাগারে শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি নেতা ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা বন্দি রয়েছেন। বৈঠকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মোবাইল জ্যামার ও কারাগারের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো আরো সক্রিয় করার নির্দেশ দেয়া হয়। কারাগারের ভিতরে মোবাইল জ্যামার থাকা সত্ত্বেও কি করে বন্দিরা মোবাইল ফোনে কথোপকথন চালান তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগার-২ এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার কয়েকজন বন্দির সঙ্গে কারাগারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান জানান, কারাগারের ভিতর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী অথবা বড় ধরনের বন্দিরা প্রায়ই মোবাইল ফোনে কথোপকথন চালাচ্ছেন। মোবাইল ফোনে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে হুমকি দিচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতর বর্তমানে ৬টি মোবাইল জ্যামার বসানো রয়েছে। এ জ্যামারগুলোর প্রতিটির কার্যকর ক্ষমতা ৩০ ফুট (৯ মিটার) ব্যাসার্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০০৮ সালে এ জ্যামারগুলো স্থাপন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল জ্যামারগুলো সব সময় সক্রিয় থাকে না। এ সুযোগে বন্দিরা মোবাইল ফোনে বাইরে কথা বলেন। গত ২৬ জুলাই কাশিমপুর কারাগার-২ এ বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস মোবাইল ফোনে ঝুট ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাক চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তিনদিন পর শেওড়াপাড়ায় কিলার আব্বাসের সহযোগীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।