অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পরিচালিত পুনর্বাসনকেন্দ্র রোকেয়া সদনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা ধর্ষণমুক্ত বিশ্বের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। গতকাল সংগঠনের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়শা খানমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, ফৌজিয়া মোসলেম, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী পুলিশ উপ-কমিশনার আয়শা সিদ্দিকা, আইন সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক রওশন জাহান পারভিন, শিশু পল্লী প্লাস-এর সমন্বয়কারী আসলাম হোসেন খান, হটলাইনের নির্বাহী রোজালিন কস্তা । মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, নির্যাতিত নারীকে আশ্রয়দান, নিরাপত্তাবিধান করা, শিক্ষা ও পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে মহিলা পরিষদ ১৯৮৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা করে রোকেয়া সদন। এক এক করে কেটে গেছে অনেক সময়, এযাবত্ এখানে অনেক নারীকে তারা আশ্রয় দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে যা প্রশংসার দাবিদার। সরকারের অনেক আগে এমন একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি মহিলা পরিষদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রোকেয়া সদনের পক্ষে ফৌজিয়া মোসলেম জানান, ২০১০ সাল পর্যন্ত তারা নির্যাতিত ১২০০ জনকে আশ্রয় দেন। আশ্রয়গ্রহণকারীদের ৩২ শতাংশকে নিজ উপার্জনে জীবিকা অর্জনে যোগ্য করেন এবং ৩৫ শতাংশকে পরিবারে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হন তারা। মালেকা বানু বলেন, অতিদ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সভ্যতা। সভ্যতার এই অবস্থায় কোথাও নারী নিরাপদ নয়। আমরা প্রতিদিন শঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতা ভীত সন্ত্রস্ত। আমাদের স্বপ্ন সকলের জন্য নিরাপদ পৃথিবী। আয়শা খানম বলেন, ধর্ষণ শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বের সমস্যা। গতবছর আমাদের পরিসংখ্যানে দেশে সাড়ে ৫ হাজারের মত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভারতের সেই ধর্ষণকে কেন্দ্র করে যেমন সবাই রুখে দাঁড়িয়েছে আমাদের তেমন করে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশে যাতে আর কোন ধর্ষণের ঘটনা না ঘটে আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করবো। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে সদনের মেয়েদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়। শেষে সদনের মেয়েদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।