বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির করা চারটি আবেদনের শুনানি চলাকালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাক-বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়েছে। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন কৌঁসুলি সালাহউদ্দিন কাদেরের দিকে তেড়ে যান। কয়েক মিনিট পর ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য বিচারপতিরা সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপের ব্যাপারে অবগত ছিলেন কি না-তা জানতে চেয়ে দায়ের করা আবেদনের ওপর প্রথমে শুনানি হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করেনি। বিচারপতি মো. নিজামুল হক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিচারপতি নিজামুল হককে বলা হয়েছে—তিনটা রায় দেন। আমরা আপনাকে আপিল বিভাগে নিয়ে আসবো। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্যই এসব আবেদন করা হয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী দাঁড়িয়ে বলেন, অবশ্যই এসব শুনতে হবে। এটাকে কি গণআদালত বানাতে এসেছেন? এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে কিছু সময় হৈ-চৈ চলে। এর মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ না হলে এতো দিনে সাঈদীর ফাঁসি হয়ে যেতো। আমাকেও হয়তো ফাঁসিয়ে দিতো।
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম দুপুরে আবার শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আদালতে চিত্কার করছেন—বিচার কার্যক্রম বিঘ্নিত করছেন। তাই তাকে এজলাসে আনা হবে না। এ সময় ব্যারিস্টার ফখরুল ওই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে নিশ্চয়তা দেন। পরে সালাহউদ্দিন কাদেরকে আবার এজলাসে আনা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, যে আবেদন করা হয়েছে তা আদালত অবমাননার শামিল। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানও বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের আদালতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা আমার ওপর রাগ করেন, আমার আইনজীবীদের ওপর রাগ কইরেন না। এ আবেদন আমার পরামর্শে করা হয়েছে। তবে এটি একটি নির্দোষ আবেদন। ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নয়। সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি সংলাপের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা যেন বর্তমান বিচারপতিদের ওপর না বর্তায় সেজন্য এ আবেদন করা হয়েছে। আপনাদের সম্মান রক্ষায় এ আবেদন।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কোন আইনজীবী এ ধরনের আবেদন করতে পারেন না। আবেদনটি খারিজ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে আবেদনকারীর আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল হওয়াও প্রয়োজন। এরপর আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি হয়। ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এ আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, বিচারক জহির আহমেদকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বিচারে হস্তক্ষেপ করেছেন। একই সঙ্গে স্কাইপ সংলাপ বিচারপতি নিজামুল হকের কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনে তাকে এ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হোক। এ শুনানির জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এসব আবেদন আদালত অবমাননার শামিল। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়। সালাহউদ্দিন কাদের এবং অ্যাটর্নি জেনারেল দুই জনই উচ্চৈস্বরে কথা বলতে থাকেন। এ সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। একদল পুলিশও এজলাসে প্রবেশ করেন। কয়েক মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হলে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে শুনানি করেন এহসানুল হক হেনা।
