প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের উকিল নোটিস

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৭
অর্থপাচার নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ তুলে সেটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে বলা হয়েছে, ২৮ দিনের মধ্যে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ‘যথাযথ আদালতে’ দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিষ্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি গতকাল বুধবার ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ নোটিস পাঠান। এতে গত ১ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে নোটিসে বলা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন তার ছেলেরা নাকি সত্ জীবনযাপন করে। যেদিন তিনি এ কথা বললেন, সেদিনই তার ছেলেদের মানিলন্ডারিংয়ের টাকা দেশে ফেরত এসেছে। এ মামলা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। মামলা হয়েছে আমেরিকার কোর্টে। এই এলাকার অনেকেই প্রবাসে থাকেন। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন, তার ছেলে লন্ডনের কোন এলাকায় থাকে। কি গাড়ি ব্যবহার করে। কি রকম বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছে। কোথা থেকে এ টাকা আসে। দুর্নীতি ছাড়া এতো টাকা কোথা থেকে আসবে? তার ছেলেরা বিদেশে রেস্টুরেন্ট করেছে। বাড়ি করছে। দামি গাড়ি কিনছে। ভাঙ্গা সুটকেস থেকে কি এসব টাকা বের হচ্ছে? বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মানিলন্ডারিং করে এসব টাকা পাচার করে এখন লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে তারেক।’ উকিল নোটিসে বলা হয়, ‘বিদেশে আমার মক্কেলের (তারেক রহমান) স্বনামে-কোন স্বজনের নামে বা অন্য কারো নামে কোনো সম্পত্তি নেই। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি পূর্ণ সততা, স্বচ্ছতা এবং আন্তরিকতা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। তিনি কখনো কোনো দুর্নীতি বা মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বাংলাদেশ ব্যাংক তার কোনো টাকা ফেরত আনেনি। যুক্তরাষ্ট্রেও তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে কোনো মামলা হয়নি। আর লন্ডনে তার কোনো রেস্তোরাঁ বা বাড়ি নেই। কেবল চিকিত্সার জন্যই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন এবং খুবই সাধারণ জীবন-যাপন করছেন। ’ নোটিসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘আপনার এই বক্তব্য তার সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করেছে, এর জন্য তাকে ব্যঙ্গ- বিদ্রূপ, অন্যায্য সমালোচনা আর ঘৃণার মুখে পড়তে হয়েছে। এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যের স্বপক্ষে আইনগত কোনো ব্যাখ্যা বা বৈধতা নেই। এটা স্পষ্ট যে, বিদ্বেষবশত আমার মক্কেলের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষতিসাধন করতে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এই অসত্য বক্তব্যে প্রবৃত্ত হয়েছেন।