ভারতের নয়াদিল্লির মেডিক্যাল ছাত্রী ধর্ষণ এবং হত্যা মামলায় এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এতে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লির সাকেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এ মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে। দেশটিতে ধর্ষণের কোনো মামলায় এই প্রথম এত দ্রুত অভিযোগপত্র দিল পুলিশ। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির।
অভিযোগপত্রে হত্যা ও ধর্ষণ ছাড়াও অপহরণ, কৃত্রিম আঘাত, ডাকাতি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ১৮ বছরের কম বয়স হওয়ায় একজনকে বাদ দেয়া হয়েছে। তার হাড় পরীক্ষার পর তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ভারতের গণমাধ্যম বলেছে, এই কিশোরই আমানতের (ছদ্মনাম) ওপর বেশি নির্যাতন করেছে। যদি সে ‘কিশোর’ বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিচার কিশোর আদালতেই হবে। এই আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর।
মামলার বিচার হবে রুদ্ধদ্বার আদালতে। মৃত তরুণী এবং তার পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাকেট বার এসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের কোনো আইনজীবী এই মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে লড়াই করবেন না। তবে আদালত এ্যাটর্নিকে অভিযুক্তদের পক্ষে নিযুক্ত করতে পারে। অভিযোগপত্রে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে ঐ ছাত্রীর দেয়া জবানবন্দি এবং তার পুরুষ বন্ধুর সাক্ষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ জন সাক্ষীর নাম এবং সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের চিকিত্সকদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের আইন অনুযায়ী অভিযোগ দায়েরের সময় অভিযুক্তের আদালতে সশরীরে হাজির হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আদালতে আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে তরুণীটির বাবা। এছাড়া মেয়ের সম্মানে তার নামে যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকালও দিল্লিতে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তারা ধর্ষণ আইন কঠোর এবং নারীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (অবসরপ্রাপ্ত) এবং আইন বিশেষজ্ঞ জে এস ভার্মার নেতৃত্বে একটি কমিটি অপরাধ আইন নিয়ে কাজ করছে। ধর্ষণের অপরাধের ঘটনায় বর্তমান আইনের কী ধরনের পরিবর্তন আনা যায় এবং আরো কি ধরনের আইন করা যায় সেই বিষয়ে তারা প্রতিবেদন দেবেন। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটি এই প্রতিবেদন দিতে পারে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর ধর্ষণের শিকার ২৩ বছর বয়সী মেডিক্যাল ছাত্রী ২৯ ডিসেম্বর মারা যায়।
