পুনঃবিচারের আবেদন খারিজ করেছে ট্রাইব্যুনাল

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
নতুন করে বিচার শুরু করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নতুন করে বিচার চেয়ে জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এ আবেদন করেছিলেন। সবগুলো আবেদনই ভিন্ন ভিন্ন আদেশ দিয়ে খারিজ করে দেয়া হয়। আদেশে বলা হয়, পুনর্বিচার করার কোন বিধান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে নেই। তাছাড়া হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোন আবেদন আমলে নেয়া যায় না। এদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ তার আদেশে বলেছে, সাঈদীর মামলায় যুক্তিতর্ক নতুন করে শোনা হবে। এজন্য উভয়পক্ষকে পাঁচদিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। এ প্রসঙ্গে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এটি একটি ভুল আদেশ। এর মাধ্যমে অভিযুক্তদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা যাবে না। এটা হবে একটা তাড়াহুড়ার বিচার। অন্যদিকে এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, হ্যাকিং একটি অপরাধ। অবৈধভাবে হ্যাকিং করা তথ্যের ওপর ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ চলতে পারে না। বেলজিয়াম প্রবাসী আইনজীবী ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের পাঠানো আদেশই ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক ট্রাইব্যুনালে ঘোষণা করেছেন এমন অভিযোগে পুনর্বিচার চেয়ে এ আবেদন করে আসামিপক্ষ। ছয়দিন শুনানি শেষে গতকাল ট্রাইব্যুনাল-১ গোলাম আযম, নিজামী ও সাঈদীর আবেদনের ওপর এ আদেশ দেয়। এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-অ্যাক্টে পুনরায় বিচার শুরু করার বিধান নেই। তিনজন বিচারক নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত। ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন চেয়ারম্যান যেসব আদেশ দিয়েছেন তা তার একক কোন সিদ্ধান্ত নয়। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। আদেশে বলা হয়, হ্যাকিং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অসত্ উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে এই হ্যাকিং করা হয়েছে। এই বেআইনি ডকুমেন্টস (নথি) ভাষান্তর করে আমার দেশ প্রকাশ করেছে। আশ্চর্যজনক হলেও এটা প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার দেশ ন্যূনতম নীতি মানেনি। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করেছেন। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনালের সামনে প্রশ্ন, অবৈধভাবে হ্যাক্ড ডকুমেন্টের ওপর ভিত্তি করে করা আবেদনে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিতে পারেন কিনা? ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অপরাধের। এখানে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-ডকুমেন্টস রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের ওপর ভিত্তি করে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা আবেদন আমলে নেয়া যায় না। তবে সাঈদীর মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, এ মামলা এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে পুনর্গঠিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনা জরুরি। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি এবং আসামিপক্ষ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এক ঘণ্টা সময় পাবে পাল্টা যুক্তি দেখানোর। এছাড়া পুনর্বিচার চেয়ে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি ওবায়দুল হোসেন নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, এই ট্রাইব্যুনাল নতুন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কোনো ঘটনা দ্বারা এই ট্রাইব্যুনাল প্রভাবিত হতে পারে না। সালাহউদ্দিন কাদেরের আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ এদিকে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগ এবং বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে সমন জারির জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আবেদেনর উপরও আদেশ দেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু সালাহউদ্দিন চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম গতকাল ওই আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের জন্য আবেদন করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল ওই খারিজ আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। তবে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপের সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-১ এর অন্য কোনো বিচারক সম্পৃক্ত ছিলেন কিনা তার ব্যাখ্যা চেয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর করা আবেদনের ওপর ১০ জানুয়ারি আদেশ দেবে ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন পর্যন্ত প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমকে অপসারণে সালাহউদ্দিনের আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। তবে গতকাল এসব আবেদনের ওপর শুনানিকালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আদালত কক্ষে হাজির করা হয়নি।