হয়তো হোটেল থেকে বাড়িতে ফেরার সময় কিংবা অন্য কোথাও যাওয়ার সময় খানিকটা তাড়াহুড়ো ছিল। আর তাই হোটেল বোর্ডার হয়তো ভুলে তার রুমেই ফেলে গেলেন শখের ঘড়িখানা। কিংবা মনের ভুলে হয়তো কারও ছাতা কিংবা মোবাইল ফোনের চার্জারের মতো ছোট কোনো জিনিসই পড়ে রইলো হোটেল কক্ষে। কিন্তু একজন ব্যক্তি হিসেবে আপনার এই একটি একটি জিনিস করে ফি বছর এক একটি হোটেলে কত ধরনের ফেলে যাওয়া জিনিস জমা হতে পারে সে সম্পর্কে আপনার কী কোনো ধারণা আছে? মজার বিষয় হলো হোটেলে ফেলে যাওয়া এইসব জিনিস যে আপনার ধারণার চেয়েও কত বেশি মজার আর অদ্ভুত হতে পারে তারই একটি ধারণা সম্প্রতি মিলেছে ব্রিটেনের সুলভ মূল্যের হোটেল চেইন ট্রাভেলজের প্রকাশিত এক রিপোর্টে। গোটা ব্রিটেনে ছড়িয়ে থাকা এই হোটেল চেইনটির ৫২৭টিরও বেশি হোটেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মামুলি ব্যবহার্য ছাড়াও গেল বছরে তাদের হোটেলেই এক অতিথি ফেলে রেখে গিয়েছিলেন বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো হ্যারি পটার সিরিজের চলচ্চিত্রে ব্যবহূত হ্যারি পটারের আসল জাদুর ছড়িটি যেটি অনায়াসেই চড়া দরে নিলামে ওঠানো যেত। এ ছাড়া কয়েক মিলিয়ন ইউরো জেতা লটারির টিকেট কিংবা হীরায় মোড়ানো আইফোনের সেটও মিলেছিল অতিথিদের ছেড়ে যাওয়া কক্ষে। এ ছাড়া মজার মজার অন্যান্য ফেলে যাওয়া সামগ্রীর তালিকায় ছিল জনপ্রিয় একটি ব্রিটিশ সোপ প্রোগ্রামের পান্ডুলিপি, রাণী এলিজাবেথের আদলে বানানো শ দুয়েক মুখোশ, এক ট্রাঙ্ক ভর্তি চকোলেটের বার, রূপকথার ঘোড়ার আদলে গড়া প্রতিকৃতি, আট ফুট উঁচু ‘ট্যানিং বুথ’সহ বহুকিছু। তবে অতিথিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর তালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় যেটি ছিল সেটি হলো বই। গেল বছর ট্রাভেলজের বিভিন্ন হোটেল রুমে অতিথিরা প্রায় ২০,০০০ এরও বেশি বই ফেলে রেখে যান। তবে এর চাইতেও বিস্ময়কর বিষয় হলো এই ২০,০০০ বইয়ের মধ্যে ৭০০০ কপি বই-ই ছিল ২০১১ তে প্রকাশিত হওয়া ই এল জেমসের আলোচিত-সমালোচিত বই ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বইয়ের কপি। এদিকে নানা ধরনের এসব সামগ্রী সম্পর্কে মন্তব্য করতে যেয়ে ট্রাভেলজের মুখপাত্র শাকিলা আহমেদ জানান প্রতি বছরই হোটেল চেইনটির লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বিভাগ থেকে আসা এমন অনেক চমক আর মজার মজার সব সামগ্রীর মুখোমুখি হন তারা।
