সুস্থ শরীর চনমনে মন হলো তারুণ্যের মূল কথা। তারুণ্য মানেই উচ্ছ্বাস, এই উচ্ছ্বাসকে স্থায়ী রাখতে শারীরিক সুস্থতার বিকল্প নেই। নিজেকে সুন্দর এবং সুস্থভাবে উপস্থাপন করতে কে না চায়! তাই তারুণ্যের এই সময়ে নিজেকে ফিট রাখাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আপনি ফিট মানেই আপনার সব হিট। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
‘Early to bed early to rise...Makes a man healthy, wealthy and wise.’ ছোটবেলায় পড়া মুখস্তের ফাঁকে এই উক্তিটি মুখস্থ হয়নি এমন তরুণ নেই বললেই চলে। কিন্তু তখন হয়তো মুখস্থ করার জন্যই মাথা ঝুঁকিয়ে পড়া হয়েছে কিন্তু এর সঠিক অর্থ বোঝা বা এর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি মাথায় আসেনি। এখন বড়বেলায় এসে বাক্যটির যথার্থ প্রয়োগ যে আপনার দৈনন্দিন জীবনে করতেই হবে তা বোঝা হয়ে গেছে। বলছিলাম সব সময়ই শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট থাকা সম্পর্কে। নিজেকে ভালো রাখতে ফিট থাকার বিকল্প কিছু নেই। মূলত সুস্থ শরীর তার সঙ্গে শান্তিময় জীবন যাপন করতে কে না চায়। কিন্তু কিছু বিশৃঙ্খলার আড়ালে জীবনটাই এলোমেলো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। আপনার দিনের শুরুটি কোনোভাবেই অলস ঘুমে না কাটিয়ে ঝটপট বিছানা ছাড়ুন, ফ্রেশ হয়ে নিন, তারপরই বেরিয়ে পড়ুন, দুই অথবা তিন কিলোমিটার হাঁটুন। দেখুন, খুব সকালে আপনার শহরটি দেখতে একটু অন্যরকমই লাগবে। এরপর ঘরে ফিরে এসে গোসল করে প্রার্থনা করুন। এতে শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে আপনি সতেজ থাকবেন। চেষ্টা করুন সব সময় সোজা হয়ে বসার এতে আপনার মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে থাকবে। যখনই খাবার খাবেন তখন ভালো করে চিবিয়ে খাবার গ্রহণ করুন। এতে আপনার হজমপ্রক্রিয়া ঠিক থাকবে। বাস বা রিকশা চড়া এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো, বেশিরভাগ সময় হেঁটেই কাজ সারুন। এতে পায়ের মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। নিজের কাজগুলো নিজেই করার চেষ্টা করুন এতে করে নিজের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হওয়ার সুযোগটি ঘটবে। ব্যস্ত থাকাটা শরীর ও মন দুয়ের পক্ষে ভালো। তাই কাজে যতটা সম্ভব ব্যস্ত থাকুন। শরীরের বাহ্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখাটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্ব অনুয়ায়ী পোশাক পরিধান করুন। মনে কোনো দুশ্চিন্তা থাকলে তা না জিইয়ে রেখে তা মেটানোর চেষ্টা করুন। রাতে শোয়ার সময় মনে কোনো চিন্তা রাখবেন না। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। রাতে শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লোম ছিদ্রের মধ্য দিয়ে শ্বসন প্রক্রিয়া চালায় সে কারণে শোয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমানো উচিত।
সঠিক খাবার খেতে
ওজন কমানোর কথা ভাবলেই প্রথমেই মাথায় আসে খাওয়াদাওয়ায় লাগাম টানার ব্যাপারটি। নানা ধরনের ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাসটি ত্যাগ করাই ভালো। শুধুমাত্র খেতে ভালো তাই বলে অনেক খেয়ে ফেললাম এমন অভ্যাসও পরিহার করা জরুরি। হয়তো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চটপটি বা ফুচকা দেখে একটু চেখে দেখার জন্য প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত, একটু মনটাকে দমিয়ে এড়িয়ে আসুন। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন জীবন থেকে যেন সমস্ত রস উধাও হয়ে না যায়। যতটুকু যাই খাচ্ছেন উপভোগ করে খান, দেখা গেল নিয়ম ভেঙে একদিন একটু বিরিয়ানি বেশি খেয়েই ফেললেন। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। পরেরদিন আরেকটু বেশি এক্সারসাইজ করুন। প্রতিদিন তাজা ফল ও সবজি, শস্যদানা, দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার এবং উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এসবের পাশাপাশি মাল্টি ভিটামিন খাওয়াও জরুরি। সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি বিশুদ্ধ পানি পান করা। পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশনের কবল থেকে রক্ষা করে মেটাবলিজমকে সচল রাখে। শুধু তাই নয়, পানি শরীরের ওজন কমায়, ত্বক সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ক্লাসে বা টিউটরের কাছে যেতে দেরি হচ্ছে এই অজুহাতে বেশিরভাগই তরুণ সকালের নাস্তা না করেই বের হয়ে যায়। নিয়মিত সকালের নাস্তা খেয়ে নিন, কারণ এটি আপনাকে সারাদিন চলতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, নাস্তা না করলে মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। তাই প্রতিদিন নাস্তা করুন। আর নাস্তায় ফল, দুধ, ডিম, রুটি বা পরোটা, টোস্ট এসব খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এসব সম্ভব না হলে রুটি আর সবজি ভরপেট খান। বর্তমানে তরুণদের মাঝে তৈলাক্ত ফাস্ট ফুড প্রহণের প্রবণতা অনেক বেশি। অনেকে ঘরে তৈরি খাবার না খেয়ে বাইরের বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, পিত্জা, টিপস, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড খান। এসব খাবার শরীরের হজম শক্তি কমিয়ে দেয়। এতে নানা রোগ অনায়াসেই বাসা বাঁধে শরীরে। আর সবকিছুতেই তাড়াতাড়ি করা তরুণদের একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। খাবার নিয়েও তাদের তাড়াহুড়োর কমতি নেই। তাড়াহুড়ো না করে যত জলদিই থাকুক না কেন ধীরে-সুস্থে খাবার শেষ করুন। আরেকটি কথা, পেট ভরে গেলে জোর করে না খাওয়াই ভালো। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
জিমে যাতায়াত
আজকাল আড্ডায় কিংবা চলতে-ফিরতে কথাচ্ছলে কাউকে ঘটা করে ‘আমি জিমে যাচ্ছি’ কথাটা বলতে পারা অনেকটা ফ্যাশনই হয়ে গেছে। তাই জিমে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণের জন্য নিচে দেওয়া পরামর্শগুলো অনুসরণ করতে পারেন।
জিমে ভর্তি হওয়ার পূর্বে আপনার ফিটনেসের প্ল্যানিং করে নিন।
বাড়ির কাছাকাছি কোনো জিমে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করুন এতে টাইম ম্যানেজম্যান্ট খুব ভালো হবে।
জিমের ট্রেনারের সাথে নিজের ফিটনেস গোল বা লক্ষ্য কী তা শেয়ার করুন এবং সে অনুযায়ী ট্রেনারের দেওয়া লাইন-আপ ফলো করুন।
জিমের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, জুতা, টাওয়েল, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিস বাছাই করুন এবং জিমে যাওয়ার সময় নিজের সাথে রাখুন ।
আস্তে আস্তে জিমের সময় বাড়ান। এতে এক্সারসাইজের ধকলটা শরীর ও মন সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে।
জিমের ট্রেনার বা পরামর্শক প্রদত্ত খাদ্যতালিকা সব সময় মেনে চলুন।
হঠাত্ করেই জিমে যাওয়া বন্ধ করবেন না। বরং নিয়মিত কয়েক মাস যাওয়া-আসা করুন দেখবেন এটা নিত্যদিনের কাজের একটা অপরিহার্য রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিছু টিপস
প্রাপ্ত বয়স্ক সকলের জন্য কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
ধূমপান বা যেকোনো মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দিতে হবে।
যারা আচরণগতভাবে অলস, তাদের কায়িক পরিশ্রমের কাজ না থাকলে কাজ খুঁজে বের করে কাজ করতে হবে।
সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন।
সকালে, বিকালে অথবা রাতে কমপক্ষে এক থেকে দুই ঘণ্টা শারীরিক ব্যায়াম করুন।
সব বয়সীদের জন্য হাঁটা একটি অতি উত্তম ব্যায়াম।
প্রতিদিন সকালে প্রচুর পানি পান করুন।
বেশি করে শাক-সবজি বা ফলমূল খান।
চা বা কফি পরিমান মতো পান করা ভালো কিন্তু অধিক পান করা স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর।
মনকে ভালো রাখতে হাসতে শিখুন।
মডেল :আমব্রিন
ছবি দীপঙ্কর দীপু
