সবেমাত্র স্কুলের গণ্ডি পেরুলো ছেলেটা। তাই এভাবে বলার অবকাশ নেই যে, ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন তিনি বরং অনেকগুলো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে বিশ্বজয় করে সে প্রমাণ করেছেন, মানুষ তার ইচ্ছের সমান বড়। ক্ষুদে নির্মাতা রায়হান আহমেদ, নিজের প্রচেষ্টাতে তৈরি করেছেন অনেক চলচ্চিত্র। সম্প্রতি স্পেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ওয়াটার ফর লাইফ’ দর্শক জরিপে সেরা পুরষ্কার পেয়েছে। প্রতিভাবান এই তরুণকে নিয়ে লিখেছেন
সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
বয়স তখন কত আর হবে ছেলেটার, সবে দুই অংকে পা দিয়েছে! বন্ধুরা সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রোগ্রাম ‘ইচ্ছে মিডিয়া’তে নিয়ে গেল রায়হানকে। সেখানে যাতায়াতের সুবাদেই ক্যামেরা প্রশিক্ষণ পেলেন রায়হান। তৈরি করে ফেললেন শিশু নির্যাতন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘নিরবতার মুক্তি’। ২০০৬-এ মুক্তি পায় তার ছবিটি। এখান থেকেই তার শুরু।
শিশুদের মাঝে সুস্থ চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানানো ও আগ্রহ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি, তাদের আয়োজনে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সবে গল্প লিখে আমন্ত্রণ পান রায়হান। ২০১০ সালে একই উত্সবে তিনি একটি পরিবেশবাদী চলচ্চিত্র ‘থার্ড আই’ নির্মাণ করেন, সেটিও সবার প্রশংসা কুড়ায়। এভাবে তার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে। নিজের সমস্ত ভাবনা ঘিরে থাকত চলচ্চিত্র। ২০১১-তে ৫ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সবে তার নির্মিত চলচ্চিত্রটি দ্বিতীয় সেরা পুরস্কার পায়। উল্লেখ্য, ছোটদের নির্মিত ছবিগুলো থেকে সেরাটি খুঁজে বের করার দায়িত্বও ছিল ছোটদের উপর। ‘ব্লাইন্ড হোপ’ শিরোনামের এ ছবিটি সম্পর্কে অন্যতম বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শিশুশিল্পী চৌধুরী জাওয়াতা আফনান, তিনি জানান, তারা অসংখ্য ছবির মাঝে এটিতে কিছু ভিন্নতা পেয়েছিলেন, কচি হাতে নির্মিত হলেও অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল সবগুলো দৃশ্য। রায়হানের এ ছবিটি আসলেই যে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন ছিল তার বড় প্রমাণ, একই বছর ছবিটি ইউনিসেফ থেকে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পায়।
রায়হানের অর্জনের গল্প এতবেশি যে শুনে মনে রাখা রীতিমতো দুঃসাধ্য! অল্প বয়সেই তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের যেভাবে নাড়া দিয়েছে, তাতে তার প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছে। নিজের ছোট্ট ক্যামেরায় ধারণ করা চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হয়েছে দেশ ছাড়িয়ে স্পেন, ফিলিপাইন ও নেদারল্যান্ডে। তার নির্মিত এক মিনিটের একটি চলচ্চিত্র ‘হোয়াট কালার ইউ আর’ রীতিমতো চমকে দেবে শেতাঙ্গদের, ভাবতে শেখাবে। চলতি বছরে নির্মাণ করেছে সে ‘থ্রি নভেম্বর’ নামে একটি চলচ্চিত্র, যা এবারের শিশু চলচ্চিত্র উত্সবেও প্রদর্শিত হয়েছে।
স্পেনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে রায়হানের নির্মিত ‘ওয়াটার ফর লাইফ’ দর্শক জরিপে সেরা হয়, যদিও বাংলাদেশস্থ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের দায়িত্বহীনতার কারণে তার আর নিজের হাতে পুরস্কার নেওয়া হয়নি। এ পুরস্কারটিও তার ভবিষ্যত্ পথচলায় অনেক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ঢাকার আদাবরে বেড়ে ওঠা রায়হানের স্বপ্ন চলচ্চিত্রকে ঘিরেই। অনেক ভালো ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চান তিনি। তার পাশাপাশি পড়াশোনাটাকেও সমান গতিতে চালিয়ে নিতে চান। তরুণ এই চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্য আমাদের শুভকামনা !
