পুরাতন বছরের বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ২০১৩ থেকে ধূমপায়ীদের জন্য হতে পারে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্যেকে বিদায় জানাবার বছর এবং এই সিদ্ধান্ত হতে পারে তামাক গ্রহণকারীদের জন্য একটি মহত্ সিদ্ধান্ত। নতুন বছরে অনেকেই অনেক কিছু সিদ্ধান্ত নেয় যেমন, এ বছর থেকে বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শুরু অথবা পুরাতন বদ-অভ্যাসকে ছেড়ে দিয়ে নতুন কোনো সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ ইত্যাদি। যে কোন সিদ্ধান্তই নিন না কেন বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শুরুর ইচ্ছা থাকলে প্রথমেই ছাড়তে হবে সিগারেট অথবা জর্দা। গেলো বছরের শেষে মানুষ নতুন বছরে সবসময়ই ভালো কিছু করতে আগ্রহী হয়। এবং এমনই একটি সিদ্ধান্ত শুধু নিজেকে নয় গোটা পরিবারকে ভরিয়ে তুলতে পারে আনন্দে আর উত্সাহে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের পূর্ণ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর তিন ভাগের একভাগ অর্থাত্ ১১১ কোটি লোক ধূমপায়ী। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে ধূমপায়ী শতকরা ৪৮ ভাগ পুরুষ এবং ৭ ভাগ মহিলা। বিশ্বে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়। এই সকল মৃত্যুর মধ্যে ১০ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয় আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে ।
তামাকের মধ্যে আছে প্রায় ৭০০০ হাজার রাসায়নিক পদার্থ এর মধ্যে ১০০টির মত বিষাক্ত এবং ৭০টির মত ক্যান্সার সৃষ্টি করার উপাদান। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫৭ হাজার এবং আমেরিকায় প্রতিবছর ৪ লাখ ৪৩ হাজার অর্থাত্ প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন ধূপানের কারণে মারা যায়। প্রতিবছর এইচআইভি এইডস, মাদকাসক্তি, মদ্যপান, সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও নরহত্যার কারণে যত লোক মারা যায় তামাক জনিত কারণে রোগ থেকে মৃত্যু হয় তার চেয়ে অনেক বেশি। যারা সৌভাগ্যবান তারা ইতিমধ্যে ধূমপানের অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে অকালমৃত্যু থেকে বেঁচে গেছেন। যারা অল্প বয়সে (১২-১৮) ধূমপান শুরু করেন তারা মধ্য বয়সে মৃত্যুবরণ করেন অর্থাত্ তাদের জীবন থেকে ২০-২৫ বছর আয়ু কম হয়ে যায়। ধূমপানের কারণে ২৫টি রোগ হওয়ার আশংকা থাকে তার মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার, হূদরোগ ও স্ট্রোক অন্যতম। তাছাড়াও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মহিলাদের স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, হূদরোগ ও বিকলাঙ্গ বা মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে ।
ধূমপান ছেড়ে দেয়া সহজ কাজ নয়, অনেক ধূমপায়ী বহুবার ছেড়ে দেবার চেষ্টা করেও ধূমপান ছাড়তে পারেননি। তার একমাত্র কারণ ধূমপানের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদান মাদকদ্রব্যটি হচ্ছে নিকোটিন। কিন্তু ঐ যে প্রবাদবাক্য “একবার না পারিলে দেখ শতবার” তাই সত্য। ইতিমধ্যে পৃথিবীর প্রায় ৫০ কোটি লোক নিজের ইচ্ছাশাক্তিতেই ধূমপান ছেড়েছেন। শুধুমাত্র চিন্তা করুন, গতবারের ধূমপান ছেড়ে দেবার প্রতিজ্ঞাগুলো কি কি ধরনের ছিল ? এবার শুধু একটি ভিন্ন ধারায় বা পন্থায় ধূমপান ছাড়ার আবার একটি পরিকল্পনা নিন যেটা আপনার জন্য আরো সহজসাধ্য হবে। দেখুন আপনার চারপাশে বৃদ্ধ বয়স্ক লোকদের যাদের বয়স এখন প্রায় ৭০-৮০ থেকে ৯০ বত্সর পর্যন্ত । তারা অনেকেই আরো ২০-৩০ বত্সর পূর্বেই ধূমপান ছেড়ে দিয়ে এখন প্রতিদিনই রমনা পার্কে বা সংসদ ভবনের সবুজ চত্বরে মুক্তবায়ু সেবন করছেন। তাদেরকে এখন আর বৃদ্ধ বলা যায় না তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন একসময়ের চেন স্মোকার, এখন তারা ধূমপান ছেড়ে দিয়ে শরীর থেকে সকল বিষাক্ত নিকোটিন নামক বস্তুদের ঝেড়ে ফেলতে সমর্থ হয়েছেন, তাই তারা আজ তরুণ নবীনদের মতই হাসি ঠাট্টায় জীবন ভরিয়ে রেখেছেন । তাই আজ থেকেই শুরু হোক আপনার নতুন জীবনের অঙ্গীকার।
লেখক : প্রফেসর, ডিপার্টমেন্ট অব ডেন্টিস্ট্রি, বারডেম
E-mail: [email protected]
