নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে দেয়া বিনামূল্যের বই বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা হারে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা পরিবহন খরচ ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ নানা অজুহাতে টাকা নিয়েছেন বলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা সর্ম্পকে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, রানীনগর উপজেলার কালীগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিবহন খরচের কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২০ টাকা হারে চাঁদা নিয়ে বই বিতরণ করে। এ সময় কয়েকজন সংবাদকর্মী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলীর কাছে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা সদর থেকে বই আনার পরিবহন খরচ বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেয়া ঠিক হয়নি।
অনুরূপ অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমাউল হুসনা বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে ২০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। রাতোয়াল আরএন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুকবর আলী জানান, বিদ্যালয়ের ফ্যান কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ১০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। পুঠিয়া আজিজুর রহমান মেমোরিয়াল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার জানান, আশপাশের বিদ্যালয়ে টাকা নেয়া হচ্ছে দেখে তারাও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ১০ টাকা নিয়েছেন। কালীগ্রাম কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী জানান, সভাপতির অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ গ্রহণকল্পে ১০ টাকা হারে নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে রানীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আসাদুজ্জামান ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, সরকারি বই বিতরণ কালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া উচিত হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, বিনামূল্যের বই দেয়ার বিনিময়ে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি সঠিক হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
