যৌতুকের জন্য গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করলো শ্বশুর বাড়ির লোকজন

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৭
স্বামীর অনুপস্থিতিতে যৌতুক আদায়ের জন্য গৃহবধূকে ঘরে আটক রেখে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে শ্বশুর-শাশুড়িসহ স্বামীর বাড়ির লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে পাকুন্দিয়া পৌরসভার হাঁপানিয়া এলাকায়। স্থানীয় লোকজন পরে তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। এর আগেই বাড়ি-ঘরে তালা লাগিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন উধাও হয়ে যায়। এজাহার সূত্র ও নির্যাতিতা গৃহবধূ শাহনাজ বেগমের (২০) সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ময়মনসিংহের পাগলা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের কন্যা শাহনাজ বেগমের সঙ্গে প্রায় নয় মাস পূর্বে হাঁপানিয়া গ্রামের আলাউদ্দিনের পুত্র রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর রুবেল মিয়া সৌদি আরব চলে যায়। এরপর থেকে শ্বশুর-শাশুড়িসহ বাড়ির অন্যান্য লোকজন দুই লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য শাহনাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সে অস্বীকৃতি জানালে শাহনাজ বেগমের ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে সে পিত্রালয়ে চলে যায়। মাসখানেক সেখানে থাকার পর ১০/১১ দিন পূর্বে শাহনাজ বেগম পুনরায় স্বামীর বাড়িতে চলে আসে। পরদিনই শ্বশুর আলাউদ্দিন, শাশুড়ি পারুল বেগম ও ননদ ইয়াসমিন (২৫) তার হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে ফেলে রাখে এবং ননদের স্বামী নজরুল ইসলাম রাজু (৩৫) জোরপূর্বক ব্লেড ও কাঁচি দিয়ে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ চলে তার বন্দি জীবন। তাকে বাইরে বের হতে দেয়া হতো না। গত ২ জানুয়ারি পুনরায় তার ওপর নির্যাতন শুরু হলে তার আর্তচিত্কার শুনে প্রতিবেশিরা এসে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে আশ্রয় দেয়। খবর পেয়ে পরদিন পিতার বাড়ির লোকজন এসে তাকে চিকিত্সার জন্য পাকুন্দিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে উল্লেখিত আসামিদের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার পাকুন্দিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। পাকুন্দিয়া থানার ওসি হাম্মাদ হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।