বন্দরনগরীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ওয়াচম্যান-ডিজিটাল পুলিশ প্রটেকশন সিস্টেম (ডিপিপিএস) নামে এ প্রযুক্তির উদ্বোধন করা হয়। এ প্রযুক্তি যারা ব্যবহার করবে তাদের প্রতিষ্ঠানে চোর-ডাকাত কিংবা যেকোন অপরাধী আক্রমণ করলে সঙ্গে সঙ্গে এ তথ্য পৌঁছে যাবে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর প্রতিমাসে এটির ভাড়া বাবদ ইজি গ্রুপকে দিতে হবে ৫০০ টাকা।
সিএমপি সূত্র জানায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজি গ্রুপ বাংলাদেশে এ প্রযুক্তির আমদানিকারক। ওয়াচম্যান-ডিপিপিএস প্রযুক্তি নিয়ে গত মাসে ইজি গ্রুপের সঙ্গে সিএমপির চুক্তি হয়। এরপর থেকে ইজি গ্রুপ চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এ প্রযুক্তি সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রযুক্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ওয়াচম্যান-ডিপিপিএস প্রযুক্তির আওতায় নগরীতে একটি স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যেসব স্থানে এ সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহার করা হবে সেখানে চুরি, ডাকাতিসহ যেকোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে, কোন অনাহুত ব্যক্তির প্রবেশ ঘটলে, দরজা-জানালা ভাঙলে কিংবা আগুন লাগার মত ঘটনা ঘটলে নিমিষেই সে সংবাদ পৌঁছে যাবে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। সে সংবাদ আরও পৌঁছে যাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা তার মনোনীত ১০ ব্যক্তির মোবাইল ফোনে।’
প্রযুক্তির আমদানিকারক ইজি গ্রুপের পরিচালক শাহনুল হাসান খান বলেন, ‘ওয়াচম্যান প্রযুক্তি সিসিটিভি’র চেয়েও আপডেট ডিভাইস। সিসিটিভি নষ্ট করে ফেললে আলামতও নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ওয়াচম্যানের ওপর কেউ আক্রমণ করলে ভাঙার পরও মোবাইলে তার ওপর হামলার মেসেজ দেবে।’
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম শহীদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) বনজ কুমার মজুমদার, তিন উপ-পুলিশ কমিশনার মিরাজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ হেল বাকী, হাবিবুর রহমান, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ানসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
