জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ রবিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপিসহ ১৮ দল। শুক্রবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলের মহাসচিব পর্যায়ের এক বৈঠক শেষে এ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পরপরই দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হরতালের সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, হরতালকে সামনে রেখে পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলীয় নেতাদের ধরপাকড় করছে। গত একদিনে সারা দেশে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার ও পুলিশি হামলায় ২১২ জন আহত হয়েছেন।
‘বিরোধী দলের ডাকা হরতাল উন্মাদের সিদ্ধান্ত’ বলে অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অর্থমন্ত্রী তেলের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেছেন তেল বিদেশে পাচার হয়ে যায় বলেই মূল্য বাড়ানো হয়েছে। আমি বলতে চাই, পাচার ঠেকানোর দায়িত্ব কার? আপনি পাচার ঠেকাতে না পারলে পদত্যাগ করুন। জনগণের গলায় ছুরি দিয়ে কি পাচার রোধ করবেন?
রিজভী আহমেদ বলেন, এই অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে ইনটেনসিভ কেয়ারে নিয়ে গেছেন। হলমার্ক, ডেসটিনির মতো কেলেঙ্কারী ঠেকাতে পারেননি। শেয়ার বাজারের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে রাস্তায় বসিয়েছেন। তাদের পেটের ভাত কেড়ে নিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারী দিয়ে রিজভী বলেন, যারা ছাত্রলীগ, যুবলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। আগামীতে বিচার করা হবে।
ব্রিফিং-এ অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
