বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নিজেদের পকেট ভারি করতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার দুর্নীতি না করলে জনগণের ওপর এই বোঝা চাপানোর প্রয়োজন হত না। এর ফলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। আগামীতে এভাবে তেলের দাম বাড়ালে আমরা অসহযোগ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রজন্ম একাডেমী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মওদুদ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দীন আল মামুনসহ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি কালাম ফয়েজীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ।
সরকারের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, আপনারা ক্ষমতায় আসার পর গত চার বছরে যে প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের অপরাজনীতি করেছেন তা স্বৈরাচারী সরকারকেও হার মানিয়েছেন। আপনাদের ফর্মুলায় কোনো দলীয় সরকারের অধীনে বা বহুদলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। স্পষ্ট করে বলতে চাই, বর্তমান রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না।
হরতাল প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা এই হরতালে দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিবে। কারণ এটা জনগণের দাবি আদায়ের হরতাল। এতে সরকার বাধা দিলে জনগণকে বাধা দেয়া হবে। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি হরতাল আহ্বানকারীদের ‘উন্মাদ’ বলেছেন। একবার আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখবেন। এই চার বছরে এমন কোন ভাল কাজ কি করেছেন যাতে জনগণ আপনাকে বাহবা দিয়েছে।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যদি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান, তাহলে যে গণবিস্ফোরণ হবে তাতে আপনারা ধুলিসাত্ হয়ে যাবেন।
