ববিতার দাবিতে সাড়া মিলেছে প্রচুর। তিনি মানুষের হূদয়ে এমন একটি নাড়া দিয়েছেন, যা তাদের শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহযোগিতায় আরও আগ্রহী করে তুলেছে। মানুষের এই সহযোগিতার হাত নিশ্চিত করবে শিশুর অধিকারকে। তাদের জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে হারানো স্বর্গ।
বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি ববিতা। একাধারে তিনি অভিনয়শিল্পী এবং একজন মা। আরেক স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী সুচন্দার ভাষায়, ‘অভিনেত্রী হিসেবে ববিতা দারুণ, মা হিসেবে আদর্শ।’ কেবল নিজের সন্তানের জন্য নয়, ববিতা তার মাতৃত্বকে অনুভব করেছেন সমগ্র বিশ্বের শিশুর জন্য। এরকম বৈশ্বিক অনুভূতির প্রকাশ রয়েছে তার সমগ্র জীবন জুড়ে। কাজের অবসরে তিনি সবসময় ছুটে গিয়েছেন পীড়িত মানুষের কাছে, তাদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন সহমর্মিতার হাত। দাঁড়িয়েছেন এসিড আক্রান্তদের পাশে। নিজের সত্তাকে উন্মোচন করেছেন মানুষের কল্যাণে। DCI (distressed children and infants international) এর ‘গুড উইল অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে তিনি নতুনভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করার পথ খুঁজে পেয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন এই স্বপ্নগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংগঠনটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি (YALE university) তে। এখানে বক্তব্য রাখেন ববিতা। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৫৮ মিলিয়ন শিশু পৃথিবীব্যাপী শিশুশ্রমে নিযুক্ত। অর্থাত্ প্রতি ছয় জনে একজন শিশুকে শ্রম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই শিশুশ্রমের পেছনের কারণটি হল দারিদ্র্য, অথচ তারা নিজেরা মোটেও এই দারিদ্র্যের জন্য দায়ী নয়। কিন্তু, শিশুরাই ভুক্তভোগী হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। একজন মা হিসেবে আমি আরেকজনের সন্তানকে এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে দেখতে চাই না যা তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে ব্যাহত করে, তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। আসুন, আমরা সবাই একসাথে শিশুদের পাশে দাঁড়াই। আপাতভাবে কঠিন মনে হলেও সম্মিলিত শক্তিতে এই কাজ আমাদের জন্য সহজ হয়ে উঠবে। এই শিশুদের জন্য কাজ করতে DCI আমাকে সুযোগ দিয়েছে বলে আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার বাকি জীবনটা এ ধরনের কাজে নিয়োজিত রাখতে চাই।’
ববিতা তার এই দাবি নিয়ে আমেরিকার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে গিয়েছেন। বিভিন্ন স্টেটে গিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। আবেদন জানিয়েছেন DCI এর পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ঘুরেছি প্রায় গোটা বিশ্ব। এত কিছুর পরও আমি বারবার ফিরে আসি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে। একজন শিল্পী হিসেবে নয়, একটি শিশুর দৃষ্টিতে দেখি আগামী পৃথিবীকে।’
মানুষের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, ‘আপনাদের সহযোগিতায় যদি একটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখেও হাসি ফোটাতে পারি, তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করবো। আসুন আমরা সবাই মিলে এই শিশুদের জীবনের আলো দেখাই। আমি একান্তভাবে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।’ তিনি মুক্তিযুদ্ধেও প্রেরণার কথা বলেন— ‘একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য একাত্তরে লড়াই করেছি। একটি শিশুর হাসির জন্য কি এগিয়ে যেতে পারবো না?’
ববিতার দাবিতে সাড়া মিলেছে প্রচুর। তিনি মানুষের হূদয়ে এমন একটি নাড়া দিয়েছেন, যা তাদের শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহযোগিতায় আরও আগ্রহী করে তুলেছে। মানুষের এই সহযোগিতার হাত নিশ্চিত করবে শিশুর অধিকারকে। তাদের জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে হারানো স্বর্গ।
++ গাজী মাজহারুল আনোয়ার
নির্মাতা, লেখক, গীতিকার
ডিসিআই এই সম্মানজনক দায়িত্ব উনাকে দিয়ে আমাদেরকেও সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে ম্যাডাম ববিতা সমগ্র পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
++নায়করাজ রাজ্জাক
নির্মাতা, অভিনেতা
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করবেন ববিতা। দোয়া করছি, সে যেন ভাল করে। সে ভাল করবে।
++সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি
পরিচালক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
অ্যাম্বাসেডর শব্দটার যদি যথার্থ ক্ষমতা থেকে থাকে, তাহলে মনে হয়, আমাদের দেশের এই তারকা ববিতা যিনি মাটিতে নেমে আসতে পারেন এবং মাটির মানুষের সাথে মিশতে পারেন।
++আফজাল হোসেন
নির্মাতা ও অভিনেতা
সমগ্র মানুষ্টাকে চিনি বলেই বলতে পারি, ববিতা ছিলেন, ববিতা আছেন এবং ববিতা থাকবেন।
++আমজাদ হোসাইন
লেখক, পরিচালক
তার মায়া-মমতা, স্নেহ অনেক বেশি। যারা গরিব শিশু, খেতে পায় না, তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতো। এই অবস্থা আছে বলেই তাকে ডিসিআই এর শুভেচ্ছা দূত বানানো হয়েছে।
