পোশাকের শিল্পী

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৬
স্বপ্নটা ছোটবেলা থেকেই দেখতেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই চিন্তা করতেন নিজে কিছু করার। তবে সেই কাজটি হতে হবে সবার পছন্দের এবং তাতে থাকবে সৃজনশীলতার ছোঁয়া। আর হ্যাঁ, এ স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান হবে বেশ কিছু মানুষের। তিনি বিশ্বাস করতেন— চেষ্টা, পরিশ্রম আর সততা থাকলে উন্নতি হবেই, সাফল্য আসবেই। বলছিলাম মুসলিম কালেকশনের স্বত্বাধিকারী মুসলিম আহমেদ-এর সম্পর্কে। তাকে নিয়ে লিখেছেন মুহম্মদ কবীর মুসলিম কালেকশনের নিত্যনতুন ডিজাইনের শার্টের নেপথ্যের মানুষ মুসলিম কালেকশনের স্বত্বাধিকারী মুসলিম আহমেদ। মুসলিম কালেকশনের প্রধান এই ফ্যাশন ডিজাইনার সহজেই বোঝেন তারুণ্যর ফ্যাশন এবং স্টাইল। আর তাই এরইমধ্যে সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে তার ডিজাইন করা মুসলিম কালেকশনের শার্ট। ‘আমার ছোটবেলা কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। বাবাকে দেখেছি ব্যবসা করতে। তখনই মাথার মধ্যে ব্যবসার চিন্তা আসে। তা ছাড়া অন্যের অধীনে চাকরি করাটা মোটেই পছন্দ ছিল না। ছাত্রাবস্থা থেকেই চিন্তা ছিল নিজে কিছু একটা করব। তবে সেটা অবশ্যই সবাই যাতে পছন্দ করে এবং নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় এ রকম কিছু। সেই চিন্তারই বাস্তব প্রতিফলন মুসলিম কালেকশন,’ বলছিলেন মুসলিম আহমেদ। তখন তিনি সোহরাওয়ার্দী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএ’র ছাত্র। বিএ পরীক্ষা দিয়েই ভারতে যান ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের উপর পড়াশোনা করতে। দেশে ফেরেন ১৯৯০ সালে। ঢাকার কেরানিগঞ্জ তখন সারাদেশের রেডিমেড পোশাকের পাইকারি মার্কেট হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তখনই ভাবলেন, এখানে কিছু করলে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনটাকে সারাদেশের তরুণদের মাঝে সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। যেই ভাবনা সেই কাজ। জাপানে যোগাযোগ করেন সেলাই মেশিন কেনার জন্য আর বোম্বে যোগাযোগ করেন ফেব্রিকস কেনার জন্য। আলম মার্কেটে দুটো দোকান নেন পাইকারি বিক্রয়ের জন্য। মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় মুসলিম কালেকশন ও মুসলিম গার্মেন্টসের। মুসলিম আহমেদ তার ব্যস্ততা সম্পর্কে বলেন, ‘এখন মুসলিম কালেকশন নিয়েই ব্যস্ত আছি। এখানে বর্তমানে কাজ করছে প্রায় তিন শতাধিক দেশি-বিদেশি কর্মী। এখন পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ৪টি। শুরুতে যে গার্মেন্টস ছিল ২ হাজার স্কয়ার ফিটের, এখন সেটা হয়েছে ৬ হাজার স্কয়ার ফিট।’ তিনি জানান, শার্ট তৈরির জন্য বোম্বে, চায়না, ইতালি, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন মিল-কারখানা ঘুরে ভালোমানের ফেব্রিকস পছন্দ করা হয়। আর সেই ফেব্রিকস দিয়ে সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত দেশি-বিদেশি কর্মী দ্বারা নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে সেলাইয়ের পর সেসব শার্ট বিক্রয় করা হয় ঢাকার কেরানিগঞ্জের মাহবুব আলম শপিং কমপ্লেক্সের পাইকারি শো-রুমে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছি, সে সব দেশের তরুণদের স্টাইল ও রুচি দেখেছি। আমি যখন একটি শার্টের ডিজাইন করি, তখন তারুণ্যের চাহিদাকে মাথায় রাখি। এ ছাড়া চলমান ফ্যাশন, স্টাইল এবং বিশ্বের ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন করে থাকি।’ নতুন বছরে মুসলিম কালেকশনের পরিকল্পনা নিয়ে মুসলিম আহমেদ জানান, এ বছরের শুরুতেই শতভাগ সূতি কাপড়ের শার্ট নিয়ে এসেছেন তারা। স্ট্রাইপ ও এক কালারের ফর্মাল ও অফিসিয়াল এসব শার্টে ফুটে উঠবে ব্যক্তিত্ব। শুধু সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিয়ে ২০১৩ সালে নতুন নতুন আকর্ষণীয় শার্ট তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া নতুন বছরে বিশাল পরিসরে আসছে মুসলিম কালেকশন। কেরানিগঞ্জের জিলা পরিষদ মার্কেটে নতুন নামে আসছে ১০০০ স্কয়ার ফিটের নতুন শো-রুম। মুসলিম আহমেদ বলেন, ‘এ শো-রুম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান হবে আরও তিনশ এবং ক্রেতাদের হাতেও আমরা নতুন ডিজাইনের শার্ট তুলে দিতে পারব।’ নতুন ডিজাইনারদের পরামর্শ দিতে গিয়ে মুসলিম আহমেদ বলেন, ‘প্রফেশন হিসেবে ফ্যাশন ডিজাইনিং বেশ চ্যালেঞ্জিং। একটা সময় ছিল যখন ফ্যাশন ডিজাইনিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার অবকাশ ছিল না। কিন্তু সময় পাল্টেছে। এখন অনেক তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে আসছে। বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড অনেক বেশি বিস্তৃত। প্রতিযোগিতাও বেশি। যে কারণে নিজেকে প্রমাণ করার একমাত্র উপায় জেনেশুনে ভালো কাজের স্বাক্ষর রাখা। ফ্যাশনের বিভিন্ন মোটিভ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। বর্তমানে ঋতুভিত্তিক ফ্যাশন বেশ জনপ্রিয়। যে কারণে প্রত্যেকটি ঋতুর ধরন অনুযায়ী কাপড়, রং ও ডিজাইন নির্বাচন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ক্রেতাদের চাহিদার ওপর। সেই সঙ্গে বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সমসাময়িক ধারণা তো থাকতেই হবে।’ মুসলিম আহমেদ ডাক নাম :রবিন জন্মতারিখ ও স্থান :২২ ফেব্রুয়ারি, নারায়ণগঞ্জ মায়ের নাম :হাজী মাসুদা বেগম বাবার নাম :আব্দুল আজিজ প্রথম স্কুল :এম ডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো। প্রিয় পোশাক :শার্ট ও প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :আড্ডা দিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :চেষ্টা, পরিশ্রম ও সততা।