চারণ কবি গফুর এখন ‘ঘরে’ জর্জরিত রোগব্যাধিতে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৩
লোহাগড়া উপজেলায় বয়রা গ্রামের চারণ কবি আ. গফুর ভালো নেই। রোগব্যাধিতে জর্জরিত তিনি। তার ওপর সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। সবকিছু মিলে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটছে আ. গফুরের জীবন। আলাপকালে আ. গফুর বলেন, বয়রা গ্রামের মরহুম অলেকা বিবির ৪ সন্তানের মধ্যে একমাত্র তিনিই জীবিত। তার পিতার নাম মরহুম মালু শেখ। বয়রা গ্রামের ঝন্টু মিয়ার পাঠশালায় তার লেখাপড়ায় হাতে খড়ি। পাঠশালার লেখাপড়া শেষে আ. গফুর কেডিআরকে স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। খুব ছোট বেলা থেকেই তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কবিতা লেখা ও গানের চর্চা করতেন। দীঘলিয়া বাজারে আ. গফুরের সাথে প্রখ্যাত চারণ কবি বিজয় সরকারের সাথে পরিচয় হয় এবং তিনি গফুরের কাব্যচর্চা দেখে মুগ্ধ হন। এরপর বিজয় সরকার দীঘলিয়া বাজারে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই আ. গফুরের বাড়িতে এসে বসতেন এবং সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা করতেন। কিন্তু সর্বগ্রাসী অভাবের কাছে লেখাপড়াসহ কোন সাধনাই আলোর মুখ দেখে না। চারণ কবি আ. গফুরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অভাবের কারণে কবি আ. গফুরের এন্ট্রান্স (ম্যাট্রিক) পাস করা সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি অনেকটা ভবঘুরে জীবনযাপন শুরু করেন। এ সময় তার সাথে পরিচয় হয় প্রখ্যাত জারিগানের সম্রাট মোসলেম উদ্দিনের সাথে। এরপর তিনি যশোরের তত্কালীন কবি অবলাকান্ত মজুমদারের সাহিত্য আসরে একে একে পরিচিত হন পল্লীকবি জসীমউদদীন, পাবনার কবি দিজেন্দ্রলাল বাগচী, খুলনার ডুমুরিয়া এলাকার কবি ও নাট্যকার ধীরাজ ভট্টাচার্য, কবি বন্দে আলী মিয়া, কবি গোলাম মোস্তফার সাথে। এখান থেকেই আ. গফুরকে ‘চারণ কবি’ নাম দেয়া। শুরু হয় আ. গফুরের লেখালেখির পথচলা। ৪০ বছর বয়সে তিনি খালাত বোন আলেয়া বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২ পুত্র ও ২ কন্যা। ২ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। রবি নামে এক পুত্র গত বছর বি-ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ছোট ছেলে কবির ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বর্তমানে তিনিও বি-ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৮১ সাল থেকে আ. গফুর প্রতিমাসে কবিভাতা হিসেবে ১২শ টাকা পেয়ে আসছেন। ঐ সামান্য টাকাতেই এতদিন তিনি কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আর তিনি পেরে উঠছেন না। ২০১০ সালে আ. গফুরের ‘আমার গান আমার আনন্দ’ নামে একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়। বইটিতে ৫০টি গান ও কবিতা রয়েছে। তার কবিতা ও গানের অনেক পাণ্ডুলিপি চুরি হয়ে গেছে। ৯৫ বছর বয়স্ক কবি আ. গফুর আরো বলেন, তার নামে উপজেলার বয়রা গ্রামে একটি সড়কের নামকরণ করা হলেও সেই সড়কটি আজও পাকা করা হয়নি। তিনি তার নামে একটি ফাউন্ডেশন চালু করার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।