মাদারীপুর শুঁটকি তৈরির ধুম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৪
প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও মাদারীপুরের বিল-বাঘিয়া, লখন্ডার বিল, গোপালগঞ্জের চান্দা বিল, বড় বিল, মোল্লার বিলসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য বিলের মিঠা পানির প্রাকৃতিক মাছ শুকিয়ে পুরাদমে শুরু হয়েছে শুঁটকি তৈরির কাজ। এসব বিলপাড়ের মানুষজন এখন কাঁচা মাছ সংগ্রহ করে তা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত। এসব শুঁটকি মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য এলাকায় বসেছে প্রচুর আড়ত্। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এসব শুঁটকি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এখানকার আড়তদাররাও তাদের শুঁটকি সরাসরি ঢাকা, সিলেট, রংপুর, চিটাগাং, সৈয়দপুরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে। এই শুঁটকি মাছের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বানিয়ারচরের শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ত্দার দেবেন্দ্র নাথ বারিকদার জানান, এ অঞ্চলের শুঁটকি মাছের মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও প্রচুর। তবে কাঁচা মাছের অভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুঁটকি এ বছর তৈরি হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, শুটকি মাছের দামও এবছর বেশি। প্রতিমণ পুঁটির শুঁটকি কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার, শোলের শুঁটকি প্রতিমণ ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার, টাকি মাছের শুঁটকি পনের থেকে আঠারো হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অঞ্চলে কর্মরত বিসিএএস’এর গবেষণা কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র ঠিকাদার জানান, খাল-নালা নদী ও জলাভূমিবেষ্টিত মাদারীপুর-গোপালগঞ্জ জেলায় নদী-খাল ও বিলের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক মাছ কমে যাওয়ায় আগের মত আর শুঁটকি উত্পাদন সম্ভব হচ্ছে না।