মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী বেসরকারি সংস্থা এভারগ্রীন কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরিফুল ইসলাম প্যারিস প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন। তার হদিস না পেয়ে অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির বামন্দী শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে গাংনী থানায় শরিফুল ইসলাম প্যারিসকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার বামন্দী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম প্যারিস আড়াই বছর আগে গাংনী উপজেলা সমবায় অফিসের একটি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বামন্দী বাজারে এভারগ্রীন কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি মাল্টিপারপাস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
চটকদার বেতন ও মোটা অংকের লভ্যাংশ দেয়ার নাম করে পরবর্তীতে তিনি একই নামে গাংনী, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাতে আরো ছয়টি শাখা অফিস খোলেন। এ সমস্ত অফিসে ৫ লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে বেশ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও এক লক্ষ টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা লভ্যাংশ প্রদানের ফাঁদে ফেলে এলাকার শত শত লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র বামন্দী শাখায় প্রায় আড়াইশ’ গ্রাহকের নিকট থেকে ৫ কোটি টাকা আমানত আদায় করে। বামন্দি শাখা থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়ে এমডি শরিফুল ইসলাম প্যারিস গত ১১ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আত্মগোপনে যান। এ ঘটনা জানাজানি হবার পর গ্রাহকরা সংস্থাটির ব্যবস্থাপক আব্দুর রশীদকে আমানতের অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য চাপ দিতে শুরু করে।
সংস্থার গ্রাহক ছাতিয়ান গ্রামের মিন্টু জানান,মাসিক ১৫ হাজার টাকা লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছে।
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেছেন, গাংনী উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম ওই সংস্থার পরিচালকের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে এভারগ্রীন মাল্টিপারপাস সোসাইটির সব কিছু হালাল করে রাখতেন। নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ওই সংগঠনটির অভিযোগের সত্যতা খুঁজে দেখছি।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপক আব্দুর রশীদ জানান, তার নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনদের দেয়া ত্রিশ লক্ষ টাকা তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম প্যারিসের নিকট জমা রেখেছেন।
গ্রাহকদের অনেকেই জানান, তারা অনেকেই সহায় সম্বল বিক্রি করে মোটা টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ টাকা খোয়া গেলে আত্মহত্যা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মহিউদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
