‘বিইআরসি’র স্বেচ্ছাচারিতা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৮
বিদ্যুত্ সমস্যা আমাদের অন্যতম জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুত্ সমস্যা বলতে আমরা সাধারণত বুঝে থাকি লোডশেডিং। না, বিদ্যুত্ সমস্যা এখন আর লোডশেডিংয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যুত্ সমস্যায় এখন যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। বিদ্যুতের দাম এবং দর নিয়ে বিইআরসি’র (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) স্বেচ্ছাচারিতা। বিদ্যুতের দাম যেভাবে দফায় দফায় বাড়ছে, ব্যবহূত বিদ্যুতের দরেও একইভাবে করা হচ্ছে আপত্তিকর ছল-চাতুরি। বিগত ২৩ ডিসেম্বর পত্রিকায় দেখলাম বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ছে। এ সরকারের আমলে এটা সপ্তম দফা! আমরা জানি না ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এ সরকার কিভাবে বাস্তবায়ন করবে। ‘ডিজিটাল’ শব্দের প্রত্যেকটা অক্ষরের সাথে বিদ্যুত্ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিদ্যুত্ ছাড়া ‘ডিজিটাল’ শব্দটিও যেন নিষ্প্রাণ। সেই বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি থামাতে সরকার যখন অপারগ, তখন বারে বারে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে বিইআরসি তথা সরকারের অবিবেচনাপ্রসূত প্রয়াস। অন্যদিকে বিদ্যুতের দর নিয়েও গ্রাহকদের সঙ্গে রীতিমত তামাশা করে চলছেন বিইআরসি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইউনিটপ্রতি এক দর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আরেক দর, আবার আবাসিক বিলের ধাপ-পদ্ধতি দেখলে মনে হয়— সাধারণ মানুষকে ওরা যে কত নির্বোধ ভাবে! শুধুমাত্র দাতব্য প্রতিষ্ঠানের দরটা ধরা হয় একটু নমনীয় নীতিতে। কিন্তু আর সব ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দর সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যে কেউ নিজের বিদ্যুত্ বিলের দরটা একটু দেখে নিলেই বুঝবেন। দর নির্ধারণে এ বৈষম্য অবশ্যই বিইআরসি’র কারসাজি। আমি জানি, আমরা এ লেখায় বিদ্যুতের দাম না বেড়ে থাকবে না, দরেও ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না। শুধু সাধারণ মানুষ জেনে রাখুক স্বাধীন বাংলাদেশে আমরাই আমাদের দ্বারা শোষিত হচ্ছি! হাসান তাওফীক, শিক্ষার্থী, বিএসসি (তৃতীয় বর্ষ), নোয়াখালি সরকারি কলেজ, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালি-৩৮০০