গোপালগঞ্জে বীজবাহিত ভাইরাসের আক্রমণে টমেটো ক্ষেত বিবর্ণ হয়ে গেছে। জেলার কোটি কোটি টাকার টমেটো নষ্ট হওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কৃষক সর্বস্ব খুইয়ে টমেটো আবাদ করেন। টমেটো ধরার সময় ক্ষেতগুলো ভাইরাসের আক্রমণে নষ্ট হওয়ায় কৃষক ঋণ পরিশোধ ও পরিবার-পরিজনের ভরন-পোষণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ওষুধ প্রয়োগ করেও কৃষক ক্ষেত রক্ষা করতে পারছে না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে টমেটো চাষে বিপর্যয়ের খবর জানতে পেরে কৃষি কর্মকর্তারা টমেটো ক্ষেতে ছুটে যান এবং টমেটো চাষীদের দুরাবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বরিশাল কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউটকে জানিয়েছে গোপালগঞ্জ কৃষি বিভাগ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেছে সিনজেন্টা কোম্পানির সবল টমেটো বীজ আবাদ করে তাদের এ অবস্থা হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ এখনো টমেটো ক্ষেতের বিপর্যয়ের সঠিক কোন কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। গোপালগঞ্জের চাষীরা এক যুগ ধরে টমেটো চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে আসছিল। গোপালগঞ্জে উত্পাদিত টমেটো জেলার চাহিদা মিটিয়ে শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে রপ্তানি করে কৃষক কোটি কোটি টাকা আয় করে থাকে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেলার ৫ উপজেলার অন্তত ১ হাজার বিঘা জমি ও পুকুরপাড়ে ১০ হাজার কৃষক সিনজেন্টা কোম্পানির সবল, ডেল্টা ও নোভাসহ বিভিন্ন জাতের টমেটো চাষ করে। কৃষক ব্যাংক ঋণ, মহাজনের কাছ থেকে দাদন ও নিজের সর্বস্ব বিনিয়োগ করে টমেটো ক্ষেত গড়ে তোলেন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার রাখিলাবাড়ী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত টমেটো চাষী যশোদা মন্ডল বলেন, ছেলে-পেলে নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে সিনজেন্টা কোম্পানির সবল টমোটো আবাদ করেছিলাম। গাছে টমেটো আসার সময় পাতা কুকড়িয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। ক্ষেতে আসলে শুধু কান্না আসে।
টমেটো চাষে বিপর্যয়ের খবর পেয়ে গত সপ্তাহে গোপালগঞ্জ কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহাসহ পদস্থ কর্মকর্তারা আক্রান্ত এলাকায় ছুটে যান ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন। বীজবাহিত ভাইরাসের কারণে পাতা কুকড়িয়ে এ ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। একই জমিতে বছরের পর বছর একই ধরনের ফসল আবাদ না করে ভিন্ন ফসল আবাদের পাশাপাশি আক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দেন উক্ত কর্মকর্তারা।
সিনজেন্টা কোম্পানির গোপালগঞ্জের ডিলার এনায়েত হোসেন বলেন, ভিজা জমিতে যারা সবল আবাদ করেছে তাদের এ সমস্যা হয়েছে। কিন্তু শুকনো জমিতে আবাদ করে অনেক কৃষক ভাল ফলন পেয়েছেন।
