ট্রেন্ড

তরুণীদের শীতের পোশাক

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৯
কড়চার এই আয়োজনে পোশাক সরবরাহ করেছে আরবান ট্রুথ, মডেল হয়েছেন সৌমি আর ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ঋতু অনুযায়ী পোশাক তৈরির ট্রেডিশন খুব বেশিদিন হয়নি এ দেশে চালু হয়েছে। তারপরেও খুব দ্রুত এ ট্রেডিশনটি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ ব্যস্ত জীবনে ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক এখন হাতের কাছেই মেলে। যার ফলে বাড়তি চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয় না। বরাবরের মতোই এ ঋতুতে মূলত ফুলস্লিভ ড্রেস প্রাধান্য পেয়েছে। শীতের ফুলস্লিভ পোশাকের মধ্যে হুডির জনপ্রিয়তা অনেক। টি-শার্ট এখন বেশ জনপ্রিয়। শার্ট কিংবা টি-শার্টের কলারের সঙ্গে সংযুক্ত ঘোমটার মতো একটা হুড যা কিনা আগে জ্যাকেট অথবা সোয়েটারের সঙ্গে শোভা পেত। সেই হুড এখন শার্ট, টি-শার্টের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ফ্যাশনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এর বাইরে উদ্যমী ফ্যাশন ডিজাইনাররা দেশজ কাপড়ে নিজস্ব ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন। দেশে পোশাকের প্রচুর ব্র্যান্ড সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং এসব ব্র্যান্ড নতুন প্রজন্মের কাছে আদরণীয় হচ্ছে। কদর বাড়ছে দেশীয় কাপড় বিশেষ করে খাদির প্রতি। বিশেষ করে আমাদের তরুণীরা ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিগত দিনের তুলনায় বর্তমানে শীতের পোশাকে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে? প্রথমে বলা যেতে পারে, চেতনাগত বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় ফ্যাশন বলতেই বোঝাত পশ্চিমা পোশাকের অনুকরণ। পাশ্চাত্য পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে একসময় অনেকেই এক ধরনের অভিজাত আয়েশ অনুভব করতেন। এখনকার প্রজন্ম সেখান থেকে সরে এসেছে। তারা দেশজশৈলীর প্রতি আগ্রহী। আমাদের মাত্রাগত বা গুণগত যে পরিবর্তন ঘটছে তাহলো—আমাদের নিজস্ব ইভেন্টকেন্দ্রিক পোশাকের উন্নয়ন ঘটছে এবং এসব পোশাকের কাপড় ও মাধ্যম হিসেবে দেশজ পণ্যই ব্যবহূত হচ্ছে। তরুণীদের শীতের পোশাকের দিকে তাকালেই বিষয়টি বোধগম্য হবে। প্রথমেই বলা যায়, তারা ইনফরমাল পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। ঘরে-বাইরে কিংবা অনুষ্ঠানে একই রকম পোশাক ব্যবহার করছে। আর পায়ে চামড়ার সু বা কেডস না পরে, নিছক স্যান্ডেল পায়ে দিব্যি চালিয়ে দিচ্ছে। বাঙালিয়ানার পোশাকগুলো যেমন—ফতুয়া, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, চাদর ব্যাপকভাবে তরুণরা গ্রহণ করছে। শুধু ঋতু অনুযায়ী পোশাকগুলো স্টাইল ও কাপড় বদলে নিচ্ছে। তবে খাদিও এ ঋতুর জন্য উপযোগী হয়ে উঠছে। শীতকালের সঙ্গে চাদর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। টি-শার্ট তো গত কয়েক বছর ধরে তরুণীদের প্রিয় পোশাক হয়ে উঠেছে। শীতে ফুলস্লিভ টি-শার্ট এখন নিত্যকার নিয়ম হয়ে গেছে। ফতুয়ায় বাঙালিয়ানার পূর্ণ রূপ পাওয়া যায়। দেশীয় সুয়েটারেও লেগেছে ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া। একই কথা বলা যায়, ব্লেজার নিয়ে। তবে ব্লেজার পরার সময় তরুণীরা বেছে নিচ্ছে নিট ব্লেজার। ফরমাল আভিজাত্য থেকে তারা দূরে থাকে। দেশজশৈলী ও কাপড়ে ফ্যাশন ডিজাইনাররা যে পোশাক উপহার দিচ্ছেন তারুণ্য তা গ্রহণ করছে। আর স্বাধীন দেশের বর্তমান প্রজন্ম যে চেতনা ধারণ করছে এবং তাদের গুণগত যে উত্কর্ষ হয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনাররা তার প্রতি সচেতন থাকছেন। এভাবে পারস্পরিক সমঝোতায় তারুণ্যের শীতের পোশাক ধারণ করছে বাঙালিয়ানার অন্বেষা। লায়লা খায়ের কনক পরিচালক ও ফ্যাশন ডিজাইনার, অঞ্জন’স ‘একটা সময় ছিল তরুণীদের শীত মানেই ছিল কার্ডিগান। তখন এই কার্ডিগান এবং স্যুয়েটারের বাইরে খুব একটা বৈচিত্র্য চোখে পড়ত না। এখন শীত মানেই তরুণীরা ঝুঁকছে লেগিংস অথবা কার্ডিগানের নিত্যনতুন কাটিংয়ের দিকে। এর বাইরে মোটা কাপড়ের টপস পছন্দ করছে ভার্সিটি পড়ুয়ারা। সে ক্ষেত্রে আপনি নিজেই শীতের পোশাকের ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতা আনতে পারেন। যারা কাজের জায়গাতে শাড়ি পরে যান, তারা মোটাকাপড়ের ফুলস্লিভ ব্লাউজ পরতে পারেন। মাফলারের ব্যাপারটি আগে ছেলেদের পরিচ্ছদের অংশ হলেও এখন তা মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এই সময়ের তরুণীরা রঙ নির্বাচনের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন, তাই শীতের ফ্যাশনে বাহারি আমেজটি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।’ বিপ্লব সাহা পরিচালক ও ফ্যাশন ডিজাইনার, রঙ ‘আগের সময় কার্ডিগান বা শাল বর্তমানে এসে আকৃতি, প্রকৃতিগত অনেক পরিবর্তনসহ হালের ফ্যাশনে এনেছে নতুন ছোঁয়া। আমরা বরাবরই ফ্যাশনে সব সময়ই দেশীয় একটা আমেজ ধরে রাখতে চেয়েছি। তরুণীরা এখন ওয়েস্টার্ন পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় পোশাকের দিকেও নজর রাখছেন। সেই চাহিদার কথা চিন্তা করে আর তরুণীদের বর্তমান পছন্দের কথা বিবেচনায় এনে আমরা বিভিন্ন ধরনের পোশাক ডিজাইন করছি। শীতে প্রচলিত প্রায় সবগুলো পোশাকেই এসেছে পরিবর্তন। একটু ভিন্নতা যা সবার চোখে লাগে। দেশীয় পোশাকের আবেদনটা তাই শীতের পোশাকেও ছড়িয়ে গেছে এখন।’