পুটিবিলা পহরচাঁদা আশ্রয়ণ প্রকল্প

জরাজীর্ণ ঘরসহ নানা সমস্যায় বাসিন্দারা!

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০৮

লোহাগাড়ার পুটিবিলা পহরচাঁদা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা শিক্ষা, চিকিত্সা, চলাচলের রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানিসহ নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া সংস্কার না করায় ঘর-বাড়িগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। এলাকার পাহাড়ি জায়গার উপর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মিত হয়। প্রকল্পে ৫২ পরিবারের আড়াই শতাধিক লোক বসবাস করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি ঘরের টিনগুলো পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে মাঝে-মধ্যে নিজেরাই সংস্কার করেছেন বসবাসকারীরা। প্রকল্পে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র। দুটি টিউবওয়েলই বিকল। শিশুদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ। নেই চলাচলের রাস্তা। প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে দূরে। অন্যদিকে চিকিত্সা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। ফলে এখানে বসবাসকারীদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রহিমা বেগম জানান, ৫২ পরিবারের আড়াই শতাধিক বাসিন্দার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা যাতায়াত। প্রকল্পের ভেতরে আইলের মতো মাটির রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন তারা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে কষ্টের সীমা থাকে না তাদের। টিউবওয়েল দুটি অকেজো হয়ে গেছে। অন্যদিকে চিকিত্সা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব সমস্যা নিয়ে দিন কাটছে আশ্রয়ণ প্রকল্পবাসীদের। অপর বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম জানান, তাদের খবর কেউ নিতে আসে না। ব্যারাকের অধিকাংশ ঘর-বাড়ির চালের টিন-বেড়া পুরাতন ও নষ্ট হয়ে গেছে। বর্ষাকালে ঘরে বৃষ্টি পড়ে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের শিশুরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. ইউনুস জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছেন তা ঠিক। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি ও যাতায়াত সমস্যা। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর-বাড়ি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু আসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি পুটিবিলা পহরচাঁদা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের অবস্থা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন। বাসিন্দারা বিভিন্ন সমস্যার কথা তাকে বলেছেন। বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি ও চলাচলের রাস্তাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি জানান।