পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সীমান্ত হত্যা মার্জনীয় নয়। যখনই সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটেছে আমরা কড়া ভাষায় নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছি। সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমাদেরও করণীয় আছে। কোনো নাগরিক যাতে রাতের বেলায় সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা না করেন সেজন্য সতর্ক থাকা জরুরি। ভারত সরকার বলেছে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামাবে। সম্প্রতি অনেক কমেছে; কিন্তু গুলি করার দায়-দায়িত্বও তাদের আছে।
বর্তমান মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য সম্পর্কে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. দীপু মনি এ কথা বলেন।
চার বছরের সরকারের পারফরমেন্স সম্পর্কে বিভিন্ন জরিপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব জরিপের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। অনেক জরিপ হচ্ছে; কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাই না। কারা জরিপ করেন, কারা অংশ নেন সেটা দেখতে হবে। সব জরিপ শেষ হবার পর দেখব।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে এখনো আমরা আশাবাদী। ভারত সরকারও আশাবাদী। সীমান্ত প্রটোকলও তারা বাস্তবায়ন করবে। ভারতের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত বিষয়ে দীর্ঘদিন কোনো কাজ হয়নি, উদ্যোগও ছিল না। আমাদের সময়ে ভারতে রপ্তানি তিনগুণ বেড়েছে। নিরাপত্তা, সীমান্তসহ সব ক্ষেত্রে কাজ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুতে অনেক মন্তব্য করেন। এতে চাপ বোধ করার কিছু নেই। নির্বাচন কিভাবে হবে তা একান্তই আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশিরা বন্ধু হিসাবে পরামর্শ দেবে। চার বছরে এ পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। ‘যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাক শিল্পে জিএসপি তুলে নিচ্ছে’— এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ বিষয়ে ইউএস ট্রেড কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা বক্তব্য তুলে ধরবো। রপ্তানি বাণিজ্যের দশমিক ছয় শতাংশ জিএসপির আওতায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, দুই-একটি ঘটনায় মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। বিশ্বজিত্ দাস হত্যার ঘটনায় সব আসামিকে ধরা হয়েছে। আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চার বছরের সাফল্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, চার বছরে অর্জিত সাফল্য ও অর্জন বিশ্ব মিডিয়ায় সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়নি। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় চার বছরে অর্জন উল্লেখ করার মতো। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ নারীর অধিকার, মানবাধিকার সমুন্নত রেখেছে। রপ্তানি বাণিজ্য, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিটেন্স, শ্রম শক্তি রপ্তানি, বিনিয়োগ— সব ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে আছি। ৫১টি দেশে ৬৫টি মিশনের মাধ্যমে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’— জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই নীতির আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। চার বছরে স্বাধীনতার মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ কমনওয়েলথ, ওআইসি, ন্যাম, সার্কসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে এবং দ্বি-পাক্ষিক ক্ষেত্রে সফল কূটনীতি উপহার দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সরব ও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন।
