অর্ধশতাধিক নৌরুট বন্ধ যাত্রীদের ভোগান্তি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৫
ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর নাব্যতা অস্বাভাবিক হারে হ্রাস পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বালুচর। এতে চার জেলার ১৫ উপজেলার অর্ধশতাধিক নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ৩০ লক্ষাধিক মানুষ। অবিলম্বে নৌপথগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীরা জানান, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারি, সদর, চিলমারি, উলিপুর, রাজিবপুর ও রৌমারি, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা এবং জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। কিন্তু চলতি বছর পানি কমার সাথে সাথে নদীতে দুই হাজারেরও বেশি বালুচর জেগে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে ৭০ টিরও বেশি নৌ-রুট। এর মধ্যে চিলমারি উপজেলায় ৫টি, রৌমারিতে ৩টি, রাজিবপুরে ২টি, কুড়িগ্রাম সদরে ২টি, ভুরুঙ্গামারিতে ৩টি, সুন্দরগঞ্জে ৫টি, গাইবান্ধা সদরে ৭টি, ফুলছড়িতে ১০টি, সাঘাটায় ৭টি, ইসলামপুরে ৩টি, দেওয়ানগঞ্জে ৫টি, সোনাতলায় ২টি এবং সারিয়াকান্দিতে ৩টি নৌঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এসব এলাকার ৩০ লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হচ্ছেন। ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার জানান, বালাসি নৌবন্দর, সৈয়দপুর ঘাট, কামারজানির ঘোঘাট, মোল্লারচর ঘাট, ফুলছড়ি ঘাট, রাজিবপুর নৌঘাট এর চ্যানেল রুট পরিবর্তন হয়ে প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে সমস্যায় পড়েছে চরের মানুষজন। আর যে কয়টি রুট এখনও চালু আছে, সে সব পথ দিয়ে নৌকা চলাচল করছে চারগুণ বেশি পথ ঘুরে। রাজিবপুর ঘাটের সদর উদ্দিন জানান, এই ঘাটে আসতে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হচ্ছে। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস সালাম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলের নদ-নদীর উপর। ক্রমাগত ভাঙ্গনের ফলে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। আর এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে।