স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেছে। এতগুলো বছর শুধু রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আর সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। ৪১ বছরে ১৫ বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি রাজনৈতিক সংস্কৃতির। সংঘাত আর প্রতিহিংসার রাজনীতির মধ্যে আজও আমরা আবদ্ধ রয়ে গেছি। বিজয়ের মাসে ৪বার হরতাল আর বিশ্বজিতের মতো নীরিহ মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখে নতুন করে স্বাধীন হতে ইচ্ছা জাগে আমাদের। এ কোন ধরনের রাজনীতি যেখানে একজন নিরীহ মানুষকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়। এ কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি যেখানে জীবনের ভয়ে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। আমরা কি এই স্বাধীন দেশ চেয়েছিলাম, যেখানে বছরের পর বছর কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রতিহিংসা আর সংঘাতময় রাজনীতি চালিয়ে যাবে? স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আজ নেই কোনো স্বস্তির নিঃশ্বাস। গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়েছে বরাবরই আংশিক। একদল কিছু দাবি আদায়ের জন্য হরতাল পালন করে। অন্যদল হরতালবিরোধী কর্মসূচি পালন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থানে এখনও অনড়। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের প্রতি যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয় তা সত্যিই আমাদের বিস্মিত করে। এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কি কোনো পরিবর্তন হবে না?
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সততা, সমতা, একতা, ন্যায়পরায়ণতা, জনকল্যাণ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও এগুলোর একটিও আজও পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
আমরা বিশ্বাস করি, আজ যারা বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা তাঁরা ১৯৭১ সালের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র স্বচক্ষে দেখেছিলেন, অনেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণও করেছিলেন। আপনাদের তো সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলে যাবার কথা নয়। আপনারাই পারেন সেই চেতনাকে ধরে রাখতে ও উজ্জীবিত করতে।
তাই আমরা আর হানাহানি, রেষারেষি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না। একটি উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই। সেই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
