রাউজানে শ্রমিকের লাশ গুমের চেষ্টা ব্যর্থ করল পুলিশ

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১৬

গুম করতে ট্রাকে করে লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় আদিবাসী এক পরিবহন শ্রমিকে লাশ উদ্ধার করেছে রাউজান থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাউজান থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান-কাউখালী সীমান্তে যানবাহন তল্লাশিতে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রাক আটক করা হয় ড্রাইভারকে। 

উদ্ধার করা লাশটি থোয়াই চিং মং মারমা’র (৩৬)। তিনি রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাপমারা গ্রামের মৃত সুইচা অং মারমার পুত্র। পেশায় চিং মং একজন পরিবহন শ্রমিক। তিনি এক ছেলে এক মেয়ে সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।

ট্রাক চালকে বরাত দিয়ে পুলিশ  জানায়, কাউখালীর তারাবুনিয়ার সুগার মিল এলাকায় ট্রাকের পেছনের ঢালাটির হুক লাগানোর সময় ছুটে গিয়ে থোয়াই চিং মং মারমার মাথায় আঘাত লাগে। এতে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন। প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে লাশটি গুম করার চেষ্টা করা হয়।কিন্তু পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। আটক ট্রাক চালকের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি রাউজান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কেউটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের পুত্র।

এই বিষয়ে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই নুর নবী ইত্তেফাককে বলেন, কাউখালী হতে আসা একটি ট্রাককে দাঁড়ানো সংকেত দিলে সংকেত তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাড়া করে ট্রাকটি আটক করে। এই সময় ট্রাকের ভেতর পলিথিন মোড়ানো লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি থানায় নিয়ে এসে কাউখালী থানার পুলিশের সহযোগিতায় লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ পেয়ে থানায় উপস্থিত হন নিহত থোয়াই চিং মারমার স্ত্রী মিচাচিং মারমা, বোন মাচিং মারমা ও অন্য স্বজনরা।  

আরও পড়ুন: নব যৌবন পাবে করতোয়া, বাঙ্গালী, ফুলজোড় ও হুরাসাগর নদী

নিহতের বোন মাচিং মারমা ইত্তেফাককে বলেন, আমরা খুবই গরিব। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ থানায় ছিল। রাউজান থানা ও কাউখালী থানা পুলিশের আলোচনার ভিত্তিতে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ইত্তেফাক/অনি