আর দুইদিন পর শুরু হচ্ছে রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী টঙ্গীতে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা। গত বছরের ন্যায় এবারো দু’পর্বের ৬ দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের তিনদিনের ইজতেমা শুরু হবে আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে। আর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে ১৮ জানুয়ারি। দু’পর্বেই পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। প্রথম পর্বের ১৩ এবং দ্বিতীয় পর্বে ২০ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত হবে। ইজতেমার মুরব্বিরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব থেকে আম রয়ান শুরু হবে। তবে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে শুক্রবার। এ দিন জুমার নামাজে লাখো মুসল্লি অংশ নেবেন।
পবিত্র হজ্বের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশে দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিবেন। ইতোমধ্যে প্রথম পর্বের ইজতেমায় শরীক হতে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আসতে শুরু করেছেন।
তাবলীগ জামাতের এ আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইজতেমা ময়দান এলাকায় থাকছে র্যাব, পুলিশ বাহিনীর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পর ইজতেমা ময়দানে জমে থাকা ময়লা আর্বজনা অপসারণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করার জন্য ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি এ চারদিনের বিরতি থাকবে। এবারের ৪৮তম বিশ্ব ইজতেমার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানে চটের ছাউনি দেয়া বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। ময়দানের উত্তর-পশ্চিমাংশে বিদেশি মেহমানদের জন্য টিনের ছাউনিযুক্ত পৃথক কামরা তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। এবারের দু’পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ ইজতেমা শুরু আগেই স্ব-স্ব বিভাগকে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইজতেমা ময়দান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে—টঙ্গীর তুরাগের তীরে বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে ইজতেমা ময়দানে চলছে সর্বশেষ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি কাজ। ইজতেমায় নির্বিঘ্ন চলাচল, ওজু, গোসল ও প্রাতঃক্রিয়া সম্পন্ন এবং তুরাগ নদীর পানি দূষণ কমানোর জন্য সরকার ও ইজতেমা আয়োজক কমিটি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়দানের উত্তরাংশে পানির ট্যাংকের কাছে নতুন করে টয়লেট নির্মাণ, ইজতেমা মাঠের অভ্যন্তরে ইট বিছানো চলাচলের রাস্তার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও একটি উত্পাদক নলকূপ স্থাপন প্রভৃতি।
ইজতেমা মাঠের দায়িত্বে নিয়োজিত আয়োজক কমিটির অন্যতম গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানান, তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের পরামর্শক্রমে ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এবারের দু’পর্বের ইজতেমায় অংশ নেয়ার জন্য ইজতেমা ময়দানকে জেলাওয়ারি নির্দিষ্ট খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে ৩২টি জেলার মুসল্লিদের জন্য ময়দানকে ৪০টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এ সব জেলার মুসল্লিরা খিত্তাওয়ারি অবস্থান নিবেন। ১ থেকে ২ নম্বর খিত্তায় গাজীপুর জেলা, ৩ থেকে ১২ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ১৩ নম্বর খিত্তায় সিরাজগঞ্জ জেলা, ১৪ নম্বর খিত্তায় নরসিংদী, ১৫ নম্বর খিত্তায় ফরিদপুর, ১৬ নম্বর খিত্তায় রাজবাড়ী, ১৭ নম্বর খিত্তায় শরিয়তপুর, ১৮ নম্বর খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ১৯ নম্বর খিত্তায় রংপুর, ২০ নম্বর খিত্তায় নাটোর, ২১ নম্বর খিত্তায় শেরপুর, ২২ নম্বর খিত্তায় রাজশাহী, ২৩ নম্বর খিত্তায় গাইবান্ধা, ২৪ নম্বর খিত্তায় জয়পুরহাট, ২৫ নম্বর খিত্তায় লালমনিরহাট, ২৬ নম্বর খিত্তায় হবিগঞ্জ, ২৭ নম্বর খিত্তায় দিনাজপুর, ২৮ নম্বর খিত্তায় সিলেট, ২৯ নম্বর খিত্তায় চাঁদপুর, ৩০ নম্বর খিত্তায় ফেনী, ৩১ নম্বর খিত্তায় চট্টগ্রাম, ৩২ নম্বর খিত্তায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, ৩৩ নম্বর খিত্তায় বাগেরহাট, ৩৪ নম্বর খিত্তায় কুষ্টিয়া, ৩৫ নম্বর খিত্তায় নড়াইল, ৩৬ নম্বর খিত্তায় চূয়াডাঙ্গা, ৩৭ নম্বর খিত্তায় যশোর, ৩৮ নম্বর খিত্তায় ঝালকাঠি জেলার মুসল্লিরা অবস্থান নিবেন। এছাড়া জেলার মহানগরগুলোর জন্য আলাদা খিত্তা রয়েছে।
ইজতেমার প্রস্তুতি সম্পর্কে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল ইসলাম জানান, দু’পর্বের ইজতেমা সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন জানান, ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এবার র্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী কাজ করবে।
