শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে :মজীনা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৩
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা (জিএসপি) বাতিল করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারকেও কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যেভাবে কাজ করে’ শীর্ষক বক্তৃতাশেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনের ইউনিয়ন আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার এন্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও) ২০০৭ সালে বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি-সুবিধা বাতিলের আবেদন করেছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। শ্রমিক ইউনিয়ন করতে না দেয়া, শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলাম হত্যা ও হত্যার ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নেয়া, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়াসহ গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা এ সুবিধা বাতিলের অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে। ড্যান মজীনা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে সব শ্রেণীর জনগণের মতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজনীয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার চায়, বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। বক্তৃতায় তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালী করে গড়ে তোলার কাজে আমেরিকা বাংলাদেশের অংশীদার। আগামী দিনগুলোতে আপনাদের চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে অধিকতর শক্তিশালী করার জন্য যতো বেশি সম্ভব প্রচেষ্টা চালানো। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালীকরণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদ ও এর ভূমিকা শক্তিশালীকরণ, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালীকরণে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য আপনাদের সাহায্য আপনাদের দেশের প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এদেশের বিভিন্ন আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সর্বোপরি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমেরিকার সাধারণ জনগণ, পন্ডিত ও শিক্ষিত সমাজ এবং আমেরিকার মিডিয়া আমাদের পাশে ছিল। বাংলাদেশের আগামীদিনের পথচলাতেও সেই সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, ফরিদউদ্দিন আহমেদ। বক্তৃতার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আরেফিন সিদ্দিকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন ড্যান মজীনা।