পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র

দুই আসামির কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলা তথ্য পেতে বুয়েটের দ্বারস্থ দুদক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৪
পদ্মা সেতু দূর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলার কারাবন্দি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও কাজী মো. ফেরদৌসের জব্দ করা নষ্ট কম্পিউটার থেকে তথ্য উদ্ধার করার চেষ্টা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নষ্ট কম্পিউটার থেকে তথ্য উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বারস্থ হয়েছে দুদক। দুদক কর্মকর্তাদের ধারণা, মামলার আগেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য নষ্ট করে ফেলেছেন আসামিরা। এমনকি পরামর্শক কাজের টেন্ডার আহ্বানের সময় থেকে প্রাক যাচাই পর্যন্ত তাদের ইমেইল এড্রেস থেকে আদান-প্রদান করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল এবং লাভালিনের সঙ্গে মেইলে যোগাযোগের তথ্যও মুছে ফেলা হয়েছে। অপর দিকে তদন্ত কর্মকর্তাদের কানাডা থেকে এসএনসি লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশের ডায়রির অনুলিপি পাওয়া এবং ই-মেইল যোগাযোগের তথ্য উদ্ধার অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তদন্ত কর্মকর্তারা বিপাকেই পড়েছেন। একারনে এসব কম্পিউটার থেকে তথ্য উদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে তদন্ত কর্মকর্তাদের। দুদকের একজন তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস তাদের ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক নষ্ট করে ফেলেছেন। এমনকি কানাডিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা ই-মেইলগুলোও মুছে ফেলেছেন তারা। এসব তথ্য পুনরুদ্ধারে দুদক এখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সাহায্য নেবে। এ বিষয়ে গত সোমবার বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে আলোচনাও করেছে দুদক। দ্রুত কম্পিউটার ও ই-মেইলের তথ্য উদ্ধার করতে দুই-একদিনের মধ্যেই বুয়েটের এক্সপার্ট প্যানেল কাজ শুরু করবে। মামলার পর মোশাররফ ও ফেরদৌসকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কম্পিউটার ও ই-মেইলে আলামত নষ্ট করার ব্যাপারে মুখ খোলেননি তারা। দু’জনই জানিয়েছেন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নষ্ট বা ই-মেইলের কোনো তথ্যই তারা মুছে ফেলেননি। তদন্ত টিমের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, তথ্য- প্রমাণ সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের। কানাডা সরকারের অনুমতি না মিললে ওই দেশে যাওয়া যাবে না। তাছাড়া রমেশ ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে ওই দেশে বিচার কাজ চলার কারণে সে দেশের আদালত আপাতত ডায়রি দেবে কি না, তা নিয়েও সংশয় আছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক দ্বিতীয়বারের সফরের সময় বলেছিল, মামলা-পরবর্তী সময়ে তদন্ত কাজে পর্যাপ্ত সহায়তা করবে। কিন্তু কার্যত তা দেখছে না দুদক।