ইচ্ছে করলেই চ্যালেঞ্জিং পেশায় মেয়েরা আসতে পারে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০১
বাঙালি মেয়েদের ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলেন অনেকেই। কিন্তু চ্যালেঞ্জিং বিষয়েও অনেক মেয়েই সাফল্যের শীর্ষে উঠে এসেছে। এই ধারায় সফল একজন আমাদের জারা হক। এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে জারা ভর্তি হয় অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বর্তমানে সে আবুধাবী এয়ারপোর্টে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছে। সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পেরে জারা হকের বাবা-মা দুজনেই গর্বিত। সম্প্রতি কথা হয় জারা হকের সাথে তার সাফল্য নিয়ে। প্রশ্ন :নতুন একটি বিষয় নিয়ে শিক্ষার জন্যে প্রথমটায় কীভাবে চিন্তা করেছিলেন? উত্তর :অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নতুন কোনো বিষয় নয়। উড়োজাহাজ চলতে শুরু করার সময় থেকেই এর ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তবে সময়ের সাথে এই শিল্পের বিকাশ ঘটেছে এবং পরে একাডেমীক ধারায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। আমাদের দেশে এই বিষয়টি অনেকের জন্যে নতুন মনে হতে পারে। কেননা এ দেশে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে অতি সম্প্রতি। চাহিদার জন্যেই বিষয়টির কার্যক্রম রয়েছে পুরো বিশ্বজুড়ে। আমার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যিনি আমাকে এই বিষয়ে পড়ালেখা করতে সর্বাধিক উত্সাহ প্রদান করেছেন। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি বিষয়, যার চাহিদা এবং কারিকুলাম পুরো বিশ্বজুড়ে একই। এই বিষয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় যেকোনো দেশে। আর চাকরি ক্ষেত্রে বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাও অনেক বেশি। যে কারণে এইচএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার পর উত্তরায় এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চোদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে ভর্তি হয়েছিলাম। অবশ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল। প্রশ্ন :এখন তো আপনি বিদেশে পড়ছেন। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী? উত্তর :আমার স্বপ্ন ছিল অল্প খরচে স্বল্প সময়ে এবং সহজে উন্নত বিশ্বে গিয়ে এ ধরনের দামী ডিগ্রি অর্জন করব। আমার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমি অতি সহজেই শিক্ষা শেষে পেশাদার হতে পেরেছি। আমি আবুধাবী এয়ারপোর্টে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করছি। এ দেশ থেকে সাধারণ একটি গতানুগতিক ডিগ্রি নিয়ে এ ধরনের পেশাদার হওয়া কঠিন। তবে এভিয়েশন কলেজ ক্যাটেক আমাকে সে সুযোগ করে দিয়েছে। ৮৯৯১৩৭১ নম্বরে ফোন করে ক্যাটেক সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে পারবেন। প্রশ্ন :নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ কী? উত্তরঃ :সাধারণত তরুণদের ক্যারিয়ারের ভাবনাটা করতে হয় এসএসসি বা এইচএসসি পাশের পর থেকে। সঠিক বিষয় নিয়ে, কোথায় পড়ব, পাশ করে পেশা গড়তে পারব কি না, খরচ কেমন হবে অথবা সার্টিফিকেটের মান কেমন হবে—এমন দুঃশ্চিন্তা এবং প্রশ্ন শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকদের মনের ভেতর লেগে থাকে। তবে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রির মধ্যে এভিয়েশন সেক্টর অন্যতম। তাই নতুন শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে পড়ালেখা করতে পারে। এতে করে তারা দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সম্পৃক্ত হতে পারবে।