মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মী নিবন্ধন শুরু ১৩ জানুয়ারি

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৯
এ বছর ফেব্রুয়ারির শেষে অথবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট মালয়েশিয়ায় যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল বুধবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সম্মেলনে নাম নিবন্ধন ও লটারির সংশোধিত তারিখ জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, রেজিস্ট্রেশনের কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্যই এই তারিখ সংশোধন করা হয়েছে। আগের ঘোষণা মতই আগামী ১৩ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়ায় সরকারি পর্যায়ে কর্মী পাঠানোর জন্য আগ্রহীদের নিবন্ধন কার্যক্রম। ১৩ জানুয়ারি তিনটি ধাপে সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবন্ধন শুরু হবে। মন্ত্রী জানান, এজন্য প্রত্যেক বিভাগকেই তিন দিন করে সময় দেয়া হবে। ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে নিবন্ধন করা হবে ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি। এরপর ১৬ জানুয়ারি লটারি করে নির্বাচন করা হবে নিবন্ধিতদের মধ্যে কারা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি নিবন্ধন এবং ১৯ তারিখ লটারি হবে। খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি নিবন্ধন করা হবে। লটারি হবে ২২ জানুয়ারি। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া যাওয়ার রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের তার নিজ ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় চার হাজার তথ্য সেবাকেন্দ্র চালু আছে। এছাড়া কিছু দুর্বল এবং কয়েকটি চালু না থাকা কেন্দ্র চালু রাখতে জেলা প্রশাসকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, যদি কোন ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র কাজ চলা অবস্থায় বিকল হয় তাহলে আগ্রহীরা পার্শ্ববর্তী ই্উনিয়নের তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকা এবং বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচতে ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে সবসময় জেনারেটর সুবিধা রাখা হবে। মন্ত্রী জানান, ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ যাতে কোন সমস্যা না হয় সেজন্য বিভাগগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে রেজিস্ট্রেশনের তারিখ আলাদা করা হয়েছে। এতে করে আগ্রহীদের কোনরকম হয়রানি করা হবে না। এছাড়া সকল মোবাইল ফোন অপারেটরকে বিশেষ রেজিস্ট্রেশন চলাকালীন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে ৩দিনব্যাপী রেজিস্ট্রেশন শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রাথমিকভাবে কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে ৩৪ হাজার ৫০০ কর্মীকে নির্বাচন করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে প্রথম পর্যায়ে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য চূড়ান্তভাবে ১১ হাজার ৫০০ কর্মীকে নির্বাচন করে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। দ্বিতীয় লটারিতে নির্বাচিতদেরকে কর্মী রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে একটি নিশ্চিতকরণ কার্ড দেয়া হবে। উক্ত কার্ডে বাছাই পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম, স্থান, তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী উল্লেখ থাকবে। সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা খরচে শ্রমিকরা মালয়েশিয়া যেতে পারবেন উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিমান ভাড়ার (একপথ) জন্য শ্রমিকদের খরচ হবে ৩১ হাজার পাঁচশ’ টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিন হাজার পাঁচশ টাকা, কল্যাণ ফি ২৫০ টাকা, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প তিনশ’ টাকা, ভিসা ফি এক হাজার একশ’ টাকা, সার্ভিস চার্জ দুই হাজার টাকা, আয়কর দুইশ’ টাকা, ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং এক হাজার টাকা এবং বিবিধ খরচ হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা বলেন, সরকারি যে কোন ফরমের তুলনায় মালয়েশিয়ার জন্য নিবন্ধনের ফরম পূরণ প্রক্রিয়া সহজ। এক থেকে দেড় মিনিটে এই ফরম পূরণ করা সম্ভব। এ হিসেবে দিনে পাঁচশ ফরম পূরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিকাল পাঁচটার মধ্যে যারা তথ্য সেবাকেন্দ্র কম্পাউন্ডে উপস্থিত থাকবে যত রাতই হোক তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হবে। ফরম পূরণ করতে অপারেটররা যদি কোন সমস্যায় পড়েন তাদের সাহায্য করার জন্য একজন করে ট্যাগ অফিসার রাখা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের অপারেটরদেরকে এসব বিষয়ে আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, এই প্রথমবারের মত এত ব্যাপকভাবে এ ধরনের কোন প্রোগাম চালু হচ্ছে। এর আগে কখনো ইউনিয়নভিত্তিক কোটায় কোন কর্মী বিদেশে যাননি। সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকার সকল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। [২১-এর পাতায় এতদসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আছে]