মাধ্যমিকের সব শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে চান

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে চাইছেন। শিক্ষকরা বলছেন, ‘আমরা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। আর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হবার যোগ্য। শিক্ষকরা জানান, গত বছরের ২৮ এপ্রিল শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে। শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেও কোনো আশ্বাস না আসায় ১ অক্টোবর থেকে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ৪ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ সাইফুজ্জামান শেখর শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার কুণ্ডকে ফোন করে জানান, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সাথে বৈঠকে সম্মতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আশ্বাস পেয়ে শিক্ষকরা পরবর্তী বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন। নতুন তারিখ নির্ধারণ হয় ৮ অক্টোবর; কিন্তু ওই বৈঠক হয়নি। শিক্ষকরা জানান, পরবর্তীতে গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সাথে আলোচনার জন্য চিঠি দিয়েছেন; কিন্তু এ সাক্ষাত্ও হয়নি। শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তিনবার আলোচনা হয়েছে। সচিবের সাথে আলোচনা হয়েছে; কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তাই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে নয় আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। ননএমপিও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় শর্ত না থাকলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বীকৃতি পায় এবং এমপিওভুক্ত হয়। অথচ শহর-গ্রামাঞ্চলের অনেক প্রতিষ্ঠান সকল শর্ত পূরণ করলেও এমপি-মন্ত্রীদের সুনজর না পেয়ে এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। শিক্ষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন ৭ হাজার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে এক লাখ ৫ হাজার শিক্ষক। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে ৩ থেকে এক যুগেরও বেশি সময় হলো। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ দিয়ে কোনোমতে বেতন-ভাতা হয় শিক্ষকদের। বিশেষ করে মফস্বল এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুল ফি কম হওয়ায় শিক্ষকরা নামে মাত্র বেতন নিচ্ছেন। নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে চলছে এসব শিক্ষকের সংসার। শিক্ষকরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে সরকারের খরচ হবে ২শ থেকে ৩শ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ২৭ হাজার ৪২৬টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এটা এ খাতের বরাদ্দের ৬০ শতাংশ। বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। কোনো এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে গেলে জনসংখ্যা হতে হবে ন্যূনতম ১০ হাজার। মহাবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও ১০ হাজার এবং এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব হবে ১০ কিলোমিটার; কিন্তু বিগত দুইটি রাজনৈতিক সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বেলায় এসব নিয়ম মানা হয়নি। ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছায় রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রদান ও এমপিওভুক্ত করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ হাজার ৫৯০টি অপ্রয়োজনীয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ৩ হাজার ৭০৭টি প্রয়োজনীয় স্থানে নেই কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী এসব স্থানে অনেক আগেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মুহূর্তে দরকার একটি স্বচ্ছ জরিপ। এই জরিপের মাধ্যমে এমপিও হবার যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি এবং সে আলোকে এমপিওভুক্ত করা। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে সরকার অবশ্যই ভাবছে।