বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সুষ্ঠুভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ থাকা উচিত কমপক্ষে ১০ হাজার। অথচ বর্তমানে রয়েছে অর্ধেকের চেয়ে সামান্য কিছু বেশি। এছাড়া মহানগরীর ১২টি থানার অর্ধেকই চলছে ভাড়া করা বাড়িতে। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও জনবল এবং প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে থানাগুলোর পক্ষে জনগণকে পর্যাপ্ত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রাম মহানগরে আরও চারটি নতুন থানার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকারি আদেশ (জিও) প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিগগিরই এই চার থানার কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (সদর) বনজ কুমার মজুমদার বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে জানান, গত ৭ জানুয়ারি সরকার চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার জন্য আরও চারটি নতুন থানা অনুমোদন করেছে। জিও পাওয়ার পর নতুন থানাগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন চার থানার কার্যক্রম ভাড়া করা বাড়িতেই চলবে বলে তিনি জানান।
সূত্র জানায়, মহানগরীর ১২ থানার মধ্যে পুরনো ছয়টি (কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, পাহাড়তলি ও খুলশী) ছাড়া বাকিগুলো চলছে ভাড়া করা বাড়িতে। সিএমপির বর্তমান জনবল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এ সংখ্যা প্রায় দশ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সিএমপির জনবল বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের (ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্ম রিঅর্গানাইজেশন) সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বর্তমান ১২টি থানা ভেঙে ১৬টিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। অনুমোদিত চারটি থানা হল সদরঘাট, চকবাজার, আকবর শাহ ও ইপিজেড।
সিএমপিসূত্র জানায়, নবগঠিত চার থানার মধ্যে আকবর শাহ ও সদরঘাট থানার জন্য বাড়ি ভাড়া করার পরিকল্পনা থাকলেও চকবাজার ও ইপিজেড থানার কার্যক্রম চলবে ওই এলাকায় ইতিপূর্বে স্থাপিত পুলিশ ফাঁড়িসমূহে। তবে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে ভবন পাওয়া গেলে ওই ভবনেই ইপিজেড থানার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
