গভীর রাতে বাস থেকে নামল একদল তরুণ-তরুণী। তাকিয়ে দেখল রাতের অন্ধকার আর কুয়াশাকে দূর করে দিয়ে মরিচ বাতিতে ঝলমল করছে একটি ক্যাম্পাস। বিতর্ককে প্রান্তজনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে, বিতর্কের মধ্যদিয়ে আলোকিত, যুক্তিবাদি ও পরমতসহিষ্ণু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে যে সংগঠন, এই তরুণ-তরুণীরা সবাই সেই সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এডিএফ বিডি)-এর মেধাবী বিতার্কিক। আর আলোকোজ্জ্বল ক্যাম্পাসটি ছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস। বিতর্ক উত্সবের আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান আকাশ ও ফাহমিদা ইয়াসমীন তানিয়া
যুক্তির ফুল ফোঁটাতে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ-এর একঝাঁক তার্কিক এবার উপস্থিত ময়মনসিংহে। ‘এসকেইফ ২য় এনডিএফ বিডি-এমএমডিএস জাতীয় মেডিকেল কলেজ বিতর্ক উত্সব-১২’ কে সফল করতে। এবার তাদের লক্ষ্য মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে যুক্তির সৌন্দর্য, এই সৌন্দর্যে তারা আলোকিত করবে সেবাকে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিতর্ক কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন, পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণী। সূর্যের আলো শীতের সকালের কুয়াশাকে দূর করার আগেই ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের কর্মীরা উপস্থিত অডিটরিয়ামে। সকাল দশটায় শুরু হয় উত্সব র্যালি। উত্সবের পোলো-শার্ট আর ক্যাপ পরে তার্কিকরা র্যালিতে যোগ দেয়। বর্ণাঢ্য র্যালির নেতৃত্ব দেয় ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব। র্যালিটি মেডিকেল কলেজের চত্বর থেকে শুরু করে চরপাড়া মোড় ঘুরে মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব ও কো-চেয়ারম্যান মুসবাহ আহমেদ মাহদীসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিতর্ক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেনকে। টস রাউন্ডের পর শুরু হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কের বিষয়গুলো ছিল—‘শুধুমাত্র চিকিত্সকদের শহর প্রীতির কারণে গ্রামে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে’, ‘বর্তমানে চিকিত্সা সেবা অধিকার নয় পণ্য’, ‘স্বাস্থ্য খাতে রাজনৈতিক প্রবেশ হাসপাতালগুলোকে রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে’, ‘সরকারি উদ্যোগ নয় বরং জনসচেতনতাই পারে সর্বস্তরের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে’। কোয়াটার ফাইনাল রাউন্ডে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘অর্থনৈতিক মুক্তি নারীমুক্তির প্রধান হাতিয়ার’। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিতর্কের পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। সেমিফাইনাল রাউন্ডে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে যে, বিশ্বায়ন তৃতীয় বিশ্বের জন্য হুমকি।’ বিতর্কে ইবনেসিনা মেডিকেল কলেজকে পরাজিত করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজকে পরাজিত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ফাইনালে পৌঁছায়। ফাইনাল রাউন্ডে বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে যে, স্বাধীনতা আজ বন্দী’। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল দলকে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। এই উত্সবে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ’। রানার্সআপ হওয়া শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের তার্কিকরা হলেন শিশির, আসিফ ও মিতু। উত্সবের সমাপনী বক্তৃতায় ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব বলেন, ‘একটি মহত্ ও গুণী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে আলোকিত, যুক্তিবাদী ও পরমতসহিষ্ণু মানুষ গড়ে উঠবে।’
উত্সবে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকা চ্যানেল ৭১, দৈনিক ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার ও বাংলা নিউজ 24.কম-এর স্থানীয় প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
