নাজমুস সাকিব
লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যানন
সব শিক্ষার্থী চান উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনুকরণীয় সাফল্য। যা দেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার সাথে সাথে অভিভাবকদের মনের আশা পূরণ করে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব তা অনেকেরই জানা নেই। এজন্যে প্রয়োজন সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া। এভাবে সাফল্যজনক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে খুলনা বাগেরহাটের ছেলে নাজমুস সাকিব। এসএসসি শেষ করে সে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেল করতে ভর্তি হয়েছিল উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে। উদ্দেশ্য ছিল উন্নত বিশ্বে গিয়ে এই বিষয়ে বড় ডিগ্রি অর্জন করবেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নাজমুুস সাকিব অ্যারোনটিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেল শেষ করে লেভেল ফাইভ সম্পন্ন করার পর EASA part-66 b1/b2 ফ্রজেন লাইসেন্স পেয়ে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যানন-এ ইন্টার্নি করছে। নাজমুস সাকিব এর সাথে কথা হয় তার এই সাফল্যগাঁথা নিয়ে।
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে অনেকেরই ভালো ধারণা নেই, এ নিয়ে একটু বলবেন কি?
নাজমুস সাকিব :এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, উড়োজাহাজ প্রকৌশলী একই বিষয়। বিশেষ করে অ্যারোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র নিয়ে থাকে। উড়োজাহাজের যাত্রী ও পাইলটদের জীবন এবং তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর অনেক কিছু নির্ভর করে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের উপর। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের কাজের ক্ষেত্রটা ব্যাপক। তবে এয়ারক্রাফটের নিত্য নতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, অনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত প্রভৃতি করা। অন্যদিকে এয়ারক্রাফটের ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লাইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। অন্যদিকে জ্বালানি দূষণ কমানো, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, সেফটি সিস্টেমসসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও তারা কাজ করে।
প্রথম থেকে কীভাবে শুরু হয়েছিল আপনার পথচলা?
নাজমুস সাকিব :আমি মনে করি, সবারই ছোট থেকে চিন্তা থাকে সে বড় হয়ে কী করবে? আমারও ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। আগে থেকেই আমার মানসিক প্রস্তুতি ছিল এ পেশায় আসার। এরপর এসএসসি পাস করে জানতে পারলাম কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে এই বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ আছে। তাদের সাথে ৮৯৯১৩৭১ এই নম্বরে কথা বলি। সেখানে গিয়ে দেখলাম, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেল সম্পন্ন করে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে। আর এ ক্ষেত্রে খরচও যথেষ্ট কম। সেখানে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ-লেভেলে ভর্তি হই। এ-লেভেল শেষ করে এই বিষয়ে লেভেল ফাইভ সম্পন্ন করার পর EASA part-66 b1/b2 ফ্রজেন লাইসেন্স পেয়ে ভিসা নিয়ে বর্তমানে আমি আয়ারল্যান্ডের লুত্ফনসা টেকনিক এজি, শ্যানন-এ ইন্টার্নি করছি। এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি এ অবস্থায় চাইলে এখানে বা অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করতে পারি। আর আয়ারল্যান্ডের মতো এমন একটি উন্নত দেশে এ ধরনের পেশাদার হওয়া মানে অনেক বড় কিছু পাওয়া।
