ক্ষতিপূরণ পাইলেন আবু গারিবের নির্যাতিতরা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৯
কুখ্যাত আবু গারিব কারাগারে বন্দী নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত হইয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলারের অধিক ক্ষতিপূরণ দিয়াছে একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০০৪ হইতে ২০০৭ সন সময়কালের মধ্যে মার্কিন বাহিনী পরিচালিত কারাগারটিতে ৭১ জন বন্দীকে নির্যাতনের সহিত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আদালতের বাহিরের ফয়সালার ভিত্তিতে সোয়া পাঁচ মিলিয়নের অধিক অর্থ ক্ষতিপূরণ দিয়াছে অ্যাংলিটি হোল্ডিংস। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান এল-৩ বর্তমানে অ্যাংলিটি হোল্ডিংসের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, পৃথিবীব্যাপী ঘৃণিত আবু গারিব কারাগারে বন্দী নির্যাতনের দায়ে এই প্রথম কোন ধরনের ক্ষতিপূরণের ঘটনা ঘটিল। নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হইবার প্রথমদিকে তত্কালীন মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ হইতে নির্যাতিত ব্যক্তিদিগকে ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করা হইলেও তাহা কখনোই বাস্তবায়িত হয় নাই। কেবলমাত্র প্রথম উদাহরণ বলিয়াই নহে, আবু গারিবের নির্যাতিতদের ক্ষতিপূরণ দানের ঘটনাটি আরেকটি দিক হইতেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, বর্তমান আইনানুসারে যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত করিবার কোন বিধান নাই। কিন্তু যুদ্ধ এলাকাতে মার্কিন বাহিনীর পক্ষে নানাবিধ কার্যক্রমে নিযুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিও সরকারের ন্যায় আইনী দায়মুক্তি পাইতে পারে কিনা তাহা লইয়া মার্কিন বিচার বিভাগ দ্বিধাবিভক্ত। তবে অ্যাংলিটির ক্ষতিপূরণ প্রদানের মধ্য দিয়া আইনী দায়মুক্তির ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আদালতের ভিন্ন ভাবনার আলামত লক্ষ্য করা যাইতেছে। আসন্ন গ্রীষ্মে সিএসিএ অপর একটি মার্কিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আবু গারিবে নির্যাতনে যুক্ত থাকিবার অভিযোগের বিচার শুরু হইলে আদালতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হইয়া উঠিবে বলিয়া আশা করা হইতেছে। আবু গারিবে বহু বন্দীর বিরুদ্ধে মার্কিনীরা যাহা ঘটাইয়াছিল তাহা মানবাধিকার, যুদ্ধবন্দী বিষয়ক সকল আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ঘোষণাদির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিচার বহির্ভূত শারীরিক শাস্তির কথা বাদ দিলেও, বন্দীদিগকে যেই সকল পন্থায় মানসিক নিপীড়ন করা হইয়াছিল তাহা কোন যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য করিয়া তোলা সম্ভব ছিল না সেই সময়ে। তথাপি ঘটনা ঘটিয়াছে। অগুণিত শান্তিকামী মানুষের সমালোচনার মধ্যেই কয়েকটি বত্সর ধরিয়া বিচারের নামে অবিচার চলিয়াছে। বন্দীকে উলঙ্গ করিয়া রাখা, হাতকড়া লাগানো অবস্থাতে ধর্ষণ করিবার ভীতি প্রদর্শন, কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করিয়া ফেলিবার মত পরিস্থিতি তৈরি করা, জোর করাইয়া বিপুল পরিমাণ পানি পান করাইয়া রক্তবমনে বাধ্য করা, তড়িতাহত করাসহ অকথ্যসব নির্যাতন পদ্ধতি বাছিয়া লওয়া হইয়াছিল আবু গারিবে। বিশ্বজুড়িয়া গণতন্ত্রের ঝান্ডা উড়াইয়া বেড়ানো শক্তিটিই এহেন অপকর্মে লিপ্ত হইয়াছিল। আবু গারিবের বন্দীরা যেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়া গিয়াছে তাহার ক্ষতিপূরণ অর্থের অঙ্কে হওয়া সম্ভব নহে। যত অর্থ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইয়াছে তাহার সম্পূর্ণটা ক্ষতিগ্রস্তরা পান নাই বলিয়াও জানা গিয়াছে। ধারণা করিতে অসুবিধা হয় না যে বন্দীদিগের হইয়া যাহারা মামলা লড়িয়াছেন তাহারা বৈধভাবেই তাহাদের হিস্যা বুঝিয়া লইয়াছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা কত করিয়া পাইয়াছেন তাহা জানানো হইবে না বলিয়া জানাইয়াছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সে যাহাই হউক, এহেন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই কথা স্বীকার করিতে হইবে যে, বিলম্বে হইলেও দোষীদিগকে শাস্তির আওতায় আনিবার একটি প্রক্রিয়ার সূচনা লক্ষ্য করা যাইতেছে। আমরা অদূর ভবিষ্যতে শুভবোধের পূর্ণ জয় কামনা করিতেছি।