বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
বিশ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির আশ্বাসে চলমান নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নৌ শ্রমিকরা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএর সভাকক্ষে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও সরকার পক্ষের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তুমুল আলোচনা ও দরকষাকষি শেষে ধর্মঘটী শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে শ্রমিকদের বেতন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। প্রস্তাবটি শুরুতে মালিক পক্ষ না মানলেও পরে মন্ত্রীর অনুরোধে মেনে নেন। তবে সিদ্ধান্ত তখনই নিতে পারেনি শ্রমিক পক্ষ। তারা বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে আরো এক দফা দরকষাকষির পর ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রমিক পক্ষ। এর আগে মালিক পক্ষ থেকে যাত্রী পরিবহন সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। এসময় মালিক পক্ষের এ প্রস্তাবে সমর্থন দেন লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি কেএম মাহমুদুর রহমান, মদিনা ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক হাজী মো. সেলিম। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শুকুর মাহমুদ ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম। এ বিতর্কের এক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করে মন্ত্রী ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির এ প্রস্তাব দেন। মালিক পক্ষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা আপনাদের সন্তানের মত। যেভাবে তারা সুস্থ হয়ে জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যবস্থাই করুন। তিনি এসময় ১৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এটা মেনে নিন। আপাতত এ সংকট মোকাবিলা করি। এর মাধ্যমে একটা ক্ষেত্র তৈরি হল। মালিকরা তাদের হাতের মুঠো খুলতে শুরু করেছেন। ২৭ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট ৩টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা আবারো আলোচনায় বসবো। সেখানে বাকি সমস্যার সমাধান করা হবে। মুসল্লিদের কষ্টের কথা চিন্তা করে আপনারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিন। আমার কথা রাখলে আপনাদের ক্ষতি হবে না। মালিকদের লক্ষ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে নেয়ার প্রস্তাব মেনে নিন। তাদের বেতন যেহেতু সামনে বাড়াতেই হবে। এখন কিছু দিয়ে রাখলে পরে কম দেয়া লাগবে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- শ্রম পরিচালক আবু সাঈদ মো. খোরশেদুল আলম, উপ-শ্রম পরিচালক (ট্রেড ইউনিয়ন) এসএম এনামুল হক, লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ নৌ-চলাচল যাত্রী সংস্থার (যাপ) সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি গোলাম রহমান টিপু, বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার, মদিনা ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক হাজী মো. সেলিম প্রমুখ। এদিকে নৌযান ধর্মঘটের তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। ধর্মঘটের কারণে নদ-নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগসহ সারাদেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। বরিশাল নদীবন্দর থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। বন্ধ থাকে যাত্রীবাহী সব ধরনের নৌযান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা-বরিশাল রুটের বিলাসবহুল লঞ্চগুলো কীর্তনখোলা নদীর বেলতলায় সরিয়ে নেয়া হয়।