সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যা রহস্য অন্ধকারে

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থমকে গেছে। র্যাবের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেও এই হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরীক্ষা করা ডিএনএ ও অন্যান্য নমুনার সঙ্গেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের কোন যোগসূত্রের মিল না হওয়ায় মামলার তদন্ত স্থবির হয়ে পড়েছে। ডিবি ও র্যাব দীর্ঘ ১১ মাসে খুনিদের সনাক্ত দূরের কথা খুনের মোটিভও উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এদিকে এ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বনানীতে মাছরাঙা টেলিভিশনের সামনে সাংবাদিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আমেরিকার ল্যাবে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ টেস্টের মতো আরো অনেক সূত্র ব্যবহার করেও খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি। র্যাব কবর থেকে লাশ তুলে পুন: ময়না তদন্ত এবং নতুন করে তদন্ত শুরু করলে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও পরবর্তী ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাঠানো ছয়জনের নমুনায় কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে আরও সাতজনের নমুনা পাঠানো হয়। এসব নমুনার রিপোর্ট থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোন তথ্য মিলেনি। হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জন গ্রেফতার রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী পলাশ রুদ্র পাল ও নিহত রুনির বন্ধু তানভীর রহমান। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রহরী হুমায়ুন ওরফে এনামুল পলাতক রয়েছে। পলাতক এনামুলকে ধরতে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহত রুনির মা নূরুন্নাহার মির্জা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাগর-রুনির ছেলে মেঘের শুধু দায়িত্বই নিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তিনি বা তার পক্ষে কেউ মেঘ কিংবা তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লোকবলের অভাব নেই। সরাসরি না হোক যদি ফোন করে মেঘ কিংবা তাদের খোঁজ নিতেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কোন সান্ত্বনা কিংবা সাহায্য সহযোগিতা আর লাগবে না, এখন আমার মেয়ে ও মেয়ে জামাইর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এখন আমি মেঘের কারণে কাঁদতেও পারি না।’ গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারে ৫৮/১/২, ‘রশিদ লজ’ অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।