সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র ও নির্যাতিত কয়েক হাজার নারী বেসরকারি সংস্থার (এএসডি) সহায়তায় এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় এখন স্বাবলম্বী হয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এরং কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি)’র ফুড সিকিউরিটি ফর দ্যা আল্ট্রা পুওর ইন দ্য হাওর রিজিওন (এপএসইউপি-এইচ) প্রকল্পের আওতায় তাহিরপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ৪৩ টি গ্রামের অতিদরিদ্র ও নির্যাতিত নারীদের খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্প, আয়বর্দ্ধক কর্মকাণ্ড ও জীবনমান উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এএসডি নারী সদস্যদের কৃষিসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করে ৩৪১৯ টি পরিবারের ৩৪১৯ জন হতদরিদ্র নারীকে প্রকল্পের আওতায় সদস্য করে সুদবিহীন অফেরত যোগ্য এককালীন ৪৭০০ টাকা করে প্রতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংস্থার সিএফ এর মাধ্যমে মোট ১,৬০,৬৯,৩০০ টাকা অনুদান দেয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেউ গবাদিপশু হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালন, সবজি বাগান এবং কুটির শিল্প ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা করে হতদরিদ্র পরিবারের হাজার হাজার নারী এখন স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে এবং স্বপ্ন দেখছে নতুন করে।
উপজেলার নারী সমাজের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কেয়ারের তত্ত্বাবধানে এনজিও সংস্থা (এএসডি) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এমন কি ঐ প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের পুষ্টির চাহিদা যোগানসহ পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সর্ম্পূণ অরাসায়নিকভাবে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে সদস্যদের ৩ বার বীজ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) এর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গ্রাম পর্যায়ে দুর্যোগ প্রতিরোধে প্রথমে ১৪ টি গ্রামের ৩৫০ জন সদস্যকে এবং পরে ৩০ টি গ্রামের ৭৫০ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এএসডির তাহিরপুর উপজেলা প্রজেক্ট অফিসার মোতাব্বির হাসেন বলেন, দরিদ্র পরিবারের এরং ঐ এলাকার গৃহ পালিত পশু-পাখি যেমন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের টিকা প্রদানে ১৪ জন সদস্যকে প্যারাভ্যাট প্রশিক্ষণ দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দেয়া হয়। অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ি উঁচুকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামোমূলক কাজ যেমন গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকায় মাটি ভরাট ও সাইট ভরাটের আওতায় মোট ১০,০০৯,৫০ টাকার উপজেলার টাকাটুকিয়া, মেঞ্জার গাঁও, গোবিন্দশ্রী, আনন্দনগর, বড়খলা এবং কালীপুর গ্রামে মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন রাস্তা তৈরি করা হয় এবং নারী-পুরুষ সম্পৃক্ত করণে ও নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৪৪ টি গ্রামে একতা নামে ১৫ থেকে ২০ সদস্য বিশিষ্ট ১টি করে মোট ৪৪টি গ্রাম উন্নয়ন কমিটি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। দুস্থ নারীদের প্রশিক্ষণ, সঞ্চয়, নকশিকাথা ও বাঁশশিল্প, নারীর স্বাস্থ্য অধিকার, বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এএসডির গ্রাম উন্নয়ন কমিটি ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে।
এএসডির ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এপএসইউপি-এইচ প্রকল্পের আওতায় শুধু তাহিরপুরেই নয় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব হাওর অঞ্চলের চরম দারিদ্র্যতা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও বিপদাপন্নতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনটি জেলা- কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের ১৭টি উপজেলার ৯৪ টি ইউনিয়নের ৬০৮ গ্রামে আমরা কাজ করছি। যার ফলে অতিদরিদ্র ও গরিব পরিবারের নারীরা যাতে বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করে খাদ্যে প্রবেশাধিকার ও বছরব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে আমরা প্রতি সদস্যকে সুদ ছাড়া ও অফেরত যোগ্য ৪ হাজার ৭শ’ টাকা করে দিয়েছি।
