টিপনা গ্রামের আকতার সরদার। চলতি আমন মৌসুমে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ভরাট হামকুড়া নদীর চরে চাষ করেছিলেন তিন জাতের আমন ধান। দিনাজপুরের সুগন্ধি কাটারিভোগ, ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল সুগন্ধি ধান ব্রি-৩৮ এবং খুলনা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বাঁশফুল বালাম ধান। তিন জাতের মধ্যে কাটারিভোগ ও বাঁশফুল ধান বিলুপ্তপ্রায় জাত। কাটারিভোগ চাষ এখন কেবল দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা দিনাজপুর, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহীতে এবং বাঁশফুল বালাম দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে চাষ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সুস্বাদু চাল পাওয়া গেলেও ফলন ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক ধান বা অনান্য হাইব্রিড ধানের চেয়ে কম হওয়ার কারণে কৃষক ক্রমেই এসব ধান চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে যারা এসব ধানের চাল খেতে অভ্যস্ত তাদের আগ্রহ ও চাহিদার কারণে দেশীয় উত্তর ও দক্ষিণের এ ঐতিহ্যবাহী দু’টো জাতের চাষ এখনো হচ্ছে। তিন জাতের মধ্যে বেশি ফলন হয়েছে ব্রি-৩৮ এর। তবে কাটারিভোগ জাত প্রথম চাষ হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে। ফলন মোটামুটি আশাতীত। বাঁশফুল বালামের চাল অনেকটা গোলাপী। এ জাতেরও ভাল ফলন পেয়েছেন আকতার হোসেন। সুগন্ধি চাল রফতানি হওয়ায় বাজারে কাটারিভোগ চালের ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষক। যার কারণে কাটারিভোগ ধান চাষে তারা ঝুঁকেছেন। চলতি বছর খুলনার মত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে কাটারিভোগের ভাল ফলন নতুন আশার সৃষ্টি করেছে কৃষকদের মাঝে। এখন তারা এ ধান চাষের স্বপ্ন দেখছেন। ব্রি -৩০ বা ব্রি -২৩ জাতের একই সময় পাকার কারণে কৃষক এ ধান তুলে সহজে বোরো তথা রবি বা খরিপ মৌসুমী ফসলের চাষ করতে পারছেন।
আকতার সরদার জানান, একটু উঁচু জমিতে কাটারিভোগ ও ব্রি-৩৮ ধানের ভাল ফলন হয়েছে। বাঁশফুল বালাম বেশ লম্বা গাছ তাই একটু নিচু জমিতে চাষ করলে অসুবিধা হয় না। ১৫ শতক জমিতে আমি ৭ থেকে ৮ মণ কাটারিভোগ, ১৫ শতকে ৯ থেকে ১০ মণ ব্রি-৩৮ এবং ৩৩ শতকে ১৫ থেকে ১৬ মণ বাঁশফুল বালাম পেয়েছি। বাজারে এসব ধানের চালের ভাল দাম রয়েছে। ইতিমধ্যে আশপাশের চাষিরা আমার কাছ থেকে বীজ নিয়ে আগামী আমন মৌসুমে এ ধানের চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। কৃষকের আগ্রহে আমি কয়েক মণ ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করেছি।
আশপাশের জমিতে চাষকৃত প্রচলিত বিআর-২৩, বিআর-৩০ জাতের চেয়ে ভাল ফলন হয়েছে আখতার সরদারের ক্ষেতে। তেমন কোনো পোকামাকড়ও লাগেনি। নানাকারণে পাশে চাষকৃত উফশী জাতের তেমন ভাল ফলন না হলেও কেবলমাত্র কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে জাত তিনটির ভাল ফলন পেয়েছেন তিনি। তবে পোকা-মাকড় ঠেকাতে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে তার। সবকিছুর পরও ভাল ফলন আর দাম পেয়ে তিনি খুশি।
উপ-পরিচালক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা
